-4.6 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৭, ২০২২

‘জানুয়ারিতে এক কটেজ থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন সেই নারী’

- Advertisement -

কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ হয়েছেন বলে যে নারী অভিযোগ করেছেন, তিনি চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি গ্রেফতার হয়েছিলেন। কক্সবাজারের কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের কটেজ এলাকা থেকে ওইদিন তার সঙ্গে আরও ৫৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় করা মানবপাচার আইনের মামলায় ওই নারী ২৭তম আসামি। আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানোর পর ২৭ জানুয়ারি তিনি জামিনে বের হন।

- Advertisement -

কক্সবাজার সদর থানার নথিপত্র যাচাইয়ের পর এ তথ্য জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাসানুজ্জামান।

ওই নারীর অভিযোগ, গত বুধবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্ট থেকে তুলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। তখন জিম্মি করা হয় তার স্বামী ও সন্তানকে।

এসপি মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ২২ ডিসেম্বরের যে ঘটনাটি প্রকাশ হয়েছে তা সত্যি স্পর্শকাতর। পর্যটন নগরী হিসেবে এটা উদ্বেগের। গণমাধ্যম যেহেতু ধর্ষণের শিকার নারীকে পর্যটক আখ্যায়িত করে প্রচার করেছে এবং তিনি সত্যিই যদি পর্যটক হন, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল হিসেবে এটা আমাদের জন্য লজ্জার। তাই তার বিষয়ে সবকিছু খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। এটা করতে গিয়েই ৮ জানুয়ারি অন্যদের সঙ্গে তার গ্রেফতারের বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

এসপি আরও বলেন, মানবপাচার মামলায় যে নামটি তিনি ব্যবহার করেছেন ২২ ডিসেম্বরের ঘটনায় করা ধর্ষণ মামলায়ও একই নাম দিয়েছেন। তবে বিভিন্ন হোটেলে ভিন্ন নামে রাতযাপনের তথ্য পেয়েছি। ২২ ডিসেম্বরের ঘটনার পর যখন হাসপাতালে কথা বলেছি তখন তিনটি নামে নিজেকে উপস্থাপন করেন ওই নারী। তাহলে তাকে কী করে গণমাধ্যম পর্যটক হিসেবে আখ্যায়িত করবে?

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটি অপ্রিয় সত্য হলো নারী-মদ-পানি এ তিনের সমন্বয় যে কোনো পর্যটন নগরীতে বিদ্যমান। তবে বৈধতা এক্ষেত্রে একটি বড় ফ্যাক্ট। কক্সবাজারে মদের বৈধতার কিছু ক্ষেত্র থাকলেও মনোরঞ্জনের জন্য নারীর বৈধতার ক্ষেত্র নেই। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কোনো নারী কক্সবাজারে আগত পর্যটকের সঙ্গে একান্তে হোটেলে অবস্থান করলে কর্তৃপক্ষের কিছুই করার বা বলার থাকে না। আবার কিছু অসাধু ব্যক্তি লোভে পড়ে কটেজ বা হোটেলে নারী রেখে অনৈতিক ব্যবসা করেন। খবর পেলে সেসব হোটেল-কটেজে অভিযান চালায় প্রশাসন।’

তিনি আরও বলেন, ‘৮ জানুয়ারিও এভাবে এক অভিযানে কাস্টমারসহ ৫৪ নারীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এভাবে প্রায়ই ধরা পড়েন কিছু নারী-পুরুষ। এসব নারী কখনোই পর্যটক নন। তবে তারা পর্যটনের অনুষঙ্গ বলা যায়। গত বুধবারের ঘটনায় ভিকটিমকে পর্যটক আখ্যা দিয়ে প্রচারণা আমাদের কক্সবাজারের ঐতিহ্যের চরম ক্ষতি করেছে। এরপরও অভিযোগ ওঠা বিষয়ের সঠিক বিচার কাম্য আমাদের।’

কলাতলী জোনের টাইড ওয়াটার হোটেলের পরিচালকদের একজন এম. বেদারুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুধু শুধু কক্সবাজার পর্যটন ও প্রশাসনের বদনাম করা হলো গত পাঁচটা দিন। কথিত ধর্ষণের শিকার ভিকটিম নারী নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি টাকা আয় করতে এই পথ বেছে নিয়েছেন। ৮ জানুয়ারি আটকের পর জামিন পেয়ে আবারও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়ান। লেনদেন নিয়ে বিতর্কিত কিছু যুবকের সঙ্গে ঘটা অনৈতিকতায় তাকে পর্যটক উল্লেখ করে পর্যটনের এ ভরা মৌসুমে একটি ভীতিকর বার্তা দেশব্যাপী ছড়ানো হয়েছে।’

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles