
হ্যালিফ্যাক্স ইউনিভার্সিটি ও কিং’স কলেজের ছাত্রনেতারা নোভা স্কশিয়া সরকারের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ক্রমবর্ধমান ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের চাপে প্রদেশে পড়াশোনা ও বসবাস ক্রমেই দুরূহ হয়ে উঠছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বুধবার নোভা স্কশিয়া এনডিপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিভার্সিটি অব কিং’স কলেজ স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট এলি অ্যান্ডারসন জানান, হ্যালিফ্যাক্সসহ সারা প্রদেশের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই তারা একই ধরনের উদ্বেগের কথা শুনছেন। তার ভাষায়, “অনেক শিক্ষার্থী আমাকে জানিয়েছেন, বাড়ির ভাড়া পরিশোধ করতে গিয়ে তারা চরম সমস্যায় পড়ছেন। টিউশন ফি, খাদ্য ব্যয় এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা সবকিছু সামাল দেওয়া তাদের জন্য এখন ব্যাপক চাপের।”
অ্যান্ডারসনের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডালহৌসি ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইথান লেকি এবং এনডিপি নেতা ক্লডিয়া শেন্ডার। তারা যৌথভাবে দাবি জানান, বর্তমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যে ৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণ করা আছে, তা আর কার্যকর নয় এবং এ সীমা পরিবর্তন বা প্রতিস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি।
ইথান লেকি বলেন, “হ্যালিফ্যাক্সে এখন অনেক শিক্ষার্থীই একাধিক খণ্ডকালীন কাজ করছেন। এমনকি বাড়িভাড়া দিতে গিয়ে অনেকে আবার গ্রোসারি কেনা পর্যন্ত কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। স্বাভাবিক জীবনযাপন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।”
কানাডা মর্টগেজ অ্যান্ড হাউজিং কর্পোরেশনের (CMHC) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হ্যালিফ্যাক্সে দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া ছিল ১,৭০০ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো যেসব বাসায় ২০২৪ সালে ভাড়াটিয়া পরিবর্তন হয়েছে, সেসব ইউনিটের ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রদেশের বাড়তি জনসংখ্যা, শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি, সীমিত আবাসন সরবরাহ এবং নতুন নির্মাণ ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এসব মিলিয়েই হ্যালিফ্যাক্সে ভাড়া সংকট চরমে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহ নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন।
ছাত্রনেতারা সরকারের কাছে আবাসনকে আরও সাশ্রয়ী করতে নীতিমালায় পরিবর্তন, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের শক্তিশালী ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থী-বান্ধব আবাসন প্রকল্প বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

