
বিবিসিতে দেখলাম ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল দেবার জন্য সুপারিশ করেছে নেতানিয়াহু। এর আগে পাকিস্তানও করেছিল।
হায় রে নোবেল!
রান্নাঘরে এসে ফ্রিজ থেকে আস্ত তরমুজটা বের করে ঘ্যাচাং করে করে অর্ধেক করে ফেলে পলিথিনে মুড়িয়ে ফ্রিজে ঢুকিয়ে বাকি অর্ধেক স্কয়ার করে কাটতে লাগলাম। মেজাজ খারাপ হলে কাটতে ভালো লাগে। ঠান্ডা জিনিস খেলেও মন শান্ত হয়।
বাটিতে তরমুজ নিয়ে টিভির সামনে চিবাতে চিবাতে প্রতিজ্ঞা করলাম; আমাকে নোবেল দিতে আসলে নোবেল কমিটির মুখের উপর প্রাইজটা ছুড়ে মারবো।
ওয়াক থু!
তরমুজের খালি বাটি রাখতে এসে আট দশটা পাকা চেরি নিয়ে চিবিয়ে ফু করে বিচিটা গার্বেজ বিনে ফেলতে থাকি।
ছোটকালে বরই খেয়েও তাই করতাম। বেশ মিষ্টি। বিচি পুঁতে দেখবো গাছ হয় কিনা।
বাগানে কাজ করতে গিয়ে গিরায় গিরায় ব্যাথা। ক্যালসিয়াম খাওয়া দরকার। হাঁড় মজবুত হবে।
ফ্রিজ থেকে দুধের জগ বের করে নাকের কাছে নিয়ে দেখি হালকা নষ্ট গন্ধ। আমার মেয়েটা সকালে দুধ গরম করতে গিয়ে গন্ধ পেয়েছিল। এক্সপায়ারী ডেট লেখা জুলাই ১৬। দুই দিন ওভার হতেই এই অবস্থা? ফ্রিজও গরমে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। ছাড়ে পেয়ে বেশি করে কেনাটাই ভুল হয়েছে।
ছোট সসপেনে দুধ ধেলে অল্প আঁচে চুলায় চড়িয়ে দিলাম। চোখ চকচক করে উঠলো; ছানা পাওয়া যাবে। অপেক্ষা করাটা কঠিন। তাই সময় কাটানোর জন্য পিস্টাশিও বাদামের কৌটা নিয়ে সোফায় বসে খোসা ভেংগে খেতে থাকি। সাস্থ্যের জন্য ভালো, আয়ু বাড়বে।
দশ মিনিটের মাথায় ছানার চাঁই ভেসে উঠলো হলদে পানির মধ্যে। আঁচ একদম কমিয়ে দিলাম যাতে ভেঙে না যায়। প্রায় পোয়া খানেক তো হবেই। চাঁইটা তুলে ফেলে হলুদ পানিতে সামান্য বিটলবণ ছিটিয়ে চুমুক মেরে স্বাদ বুঝবার চেষ্টা করি। কিছুটা ঘোল ঘোল ভাব, তবে বেশি পাতলা হলেও মন্দ না। ছোটকালে এই ছানা পেলে কথাই ছিল না, হলুদ পানিটা পর্যন্ত শুকিয়ে কন্ডেন্সড মিল্কের মতো করে ফেলতাম। কি অসাধারন ফ্লেভার ছিল রে ভাই! দেশের দুধের কোনো তুলনা নাই।
পিরিচে ছানা নিয়ে চিনি মিশিয়ে ফ্রিজ থেকে গিন্নির হাতে বানানো দুটা রুটি বের করে গরম করে ডাইনিং এ খেতে থাকি। গরম ছানায় চিনি গলে গিয়ে নাটোরের কাঁচাগোল্লার মতো হয়ে যাচ্ছে গো..।
রিজিকে ছিল..
মনটা উদাস হয়ে গেলো।
দেশে থাকতে আগের দিনে মেহমানদের আনা চমচম বা রসগোল্লা সকালে রুটি আর প্টল-আলুভাজির সাথে যেতো বেশ। দিনগুলো কোথায় যে হারিয়ে গেলো..
রুটিটার দিকে চেয়ে মনে পড়লো; আজ রাতে মেয়েটাকে যখন শর্মা বানিয়ে দিয়েছিলাম, সে হাতে নিয়ে উল্টে-পাল্টে বলল, বাবা তুমি শর্মা প্যাচাতে শিখোনি?
গুগল করে শিখে নিলাম কীভাবে শর্মা প্যাচাতে হয়।
ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় অঙ্ক খাতায় না করে শুধু চোখ বুলিয়ে ভাবতাম পরীক্ষায় পারবো। ফলাফল যা হবার তাই, পরীক্ষায় রাম ধরা। তাই প্র্যাকটিক্যালি বানিয়ে দেখাটা যে কতটা জরুরি তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম।
একটু কষ্ট হবে যদিও। ফ্রিজ থেকে লেটুশ, আভোক্যাডো, ধনে পাতা, টমেটো, কাঁচামরিচ, শসা আর ভুনা ভেড়ার ভুরি বের করে টেবিলে রেখে সবজি ছোট করে কেটে রুটিটা মাখনে গরম করে নিলাম। ভুরির বাটিটা মাইক্রোতে মিনিটখানেক গরম করে ভেতরেই রেখে দিলাম। গন্ধ ছুটলে লোকজন ভাগ বসাবে।
রুটির এক সাইডে মেয়োনেজ আর শ্ড়িরাচা সস মাখিয়ে, সব্জি দিয়ে, উপরে ভুড়ি ভুনা ছিটিয়ে, কাঁচামরিচ আর কাঁচা পেঁয়াজ সর্ষে তেলে মাখিয়ে ছিটিতে নিখুঁতভাবে পেচিয়ে ফেললাম। কে বলে আমি পারি না? এলুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়িয়ে মাঝ বরাবর বাঁকা করে চাকু দিয়ে কেটে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে রইলাম। সব ইনগ্রিডিয়েন্টস স্তরে স্তরে সাজানো।আভোক্যাডোর সবুজাভ শাঁস যে টেক্সচার এনেছে ভাই রে! ঘানি ভাংগা সর্ষে তেলের সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে সারা রান্নাঘর জুড়ে!
গরম গরম খেয়ে ফেলতে হবে।
ফ্রিজ থেকে এক বাটি স্ট্রবেরী আইসক্রিমও নিলাম। ব্যাস, আর কিচ্ছু না। কোলেস্টেরল বাড়বে।
ওগুলো ট্রেতে তুলে নিয়ে হাঁটা ধরতেই দেখি সোফার উপর গিন্নি শুয়ে ফেইসবুক রিলস দেখছে। তার মাথাটার খুলিটা আমার দিকে, হাতে ধরা মেবাইলের স্ক্রিনে এক সুইটি খামচি দেবার ভঙ্গিতে বিড়ালের মতো “গিড়ড়ড়.. গিড়ড়ড়..” করছে।
আমি ভয় পেয়ে আবার ট্রেসহ রান্নাঘরে ফিরে গিয়ে আরেকটা থালায় অর্ধেক শর্মা আর আরেক বাটিতে আইসক্রিম তুলে নিয়ে গিন্নির দিকে একটা থালা এগিয়ে দেই। সে বত্রিশ পাটি বের করে উঠে বসে বলল, ভুরি দিছো শর্মায়?
– হুঁ
– ওয়াও! দাঁড়াও চান্দু, শর্মা ভাগ হয়ে গেলো; তোমার কম পড়বে, পেট ভরবে না। চট করে চিকেন নাগেট ভেজে দিচ্ছি।- বলে সে রান্নাঘরে গিয়ে পাঁচ মিনিটের মাথায় ফিরলো এক বাটি নাগেট আর কাঁচামরিচ-লবন দিয়ে মাখানো আনারস নিয়ে। সাথে ম্যাগি তেঁতুল সসের বোতল। ওগুলো সামনে রেখে বলল, খাওয়া শেষ হলে স্মুদি বানিয়ে দিচ্ছি বরফকুচি দিয়ে। দেখোতো পিনাকীর নতুন এপিসোড আসছে নাকি?..
অটোয়া, কানাডা

