ভাড়া গাড়িতে দৈনিক ৪ হাজার ১০০ কিমি ভ্রমণ!

ভাড়া গাড়িতে দৈনিক ৪ হাজার ১০০ কিমি ভ্রমণ! - the Bengali Times
হুয়াংয়ের দাবি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাত দিনের ভ্রমণে তিনি মোটামুটি ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন অথচ গাড়ি ফেরত দেওয়ার পর তাঁকে জানানো হয় নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করায় তাঁকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে

সাত দিনে প্রায় ২৯ হাজার কিলোমিটার গাড়ি চালানো কি আদৌ সম্ভব? তার ওপর সেই সময়ে জ্বালানি নেওয়া হয়েছে মাত্র দুবার! এমনই অবিশ্বাস্য হিসাব সামনে রেখে টরন্টোর এক ব্যক্তির কাছে অতিরিক্ত ৫ হাজার ৯০০ ডলার দাবি করেছে গাড়ি ভাড়া দেওয়ার প্রতিষ্ঠান অ্যাভিস। সংস্থাটির পাঠানো বিল দেখে রীতিমতো বিস্মিত ইউয়েহাউ হুয়াং এখন নিজের পাওনা টাকা ফেরত পেতে লড়ছেন।

হুয়াংয়ের দাবি, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাত দিনের ভ্রমণে তিনি মোটামুটি ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। অথচ গাড়ি ফেরত দেওয়ার পর তাঁকে জানানো হয়, নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করায় তাঁকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। অ্যাভিসের হিসাব অনুযায়ী, সাত দিনে গাড়িটি চলেছে ২৮ হাজার ৯৩৩ কিলোমিটার।

- Advertisement -

এই হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না হুয়াং। তাঁর বক্তব্য, এত কম সময়ে ওই পরিমাণ পথ পাড়ি দিতে হলে গাড়ি চালাতে হতো প্রায় বিরতিহীনভাবে। এমনকি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার গতিতে একটানা গাড়ি চালালেও এই দূরত্ব অতিক্রম করতে দীর্ঘ সময় লাগত। ফলে জ্বালানি নেওয়া, বিশ্রাম কিংবা ঘুমানোর মতো স্বাভাবিক প্রয়োজন মেটানোর সুযোগও থাকত না।

হুয়াংয়ের ভাষায়, “আমি শুধু মনে মনে বলেছি, এটা ঠিক নয়।”

গত ১১ সেপ্টেম্বর টরন্টো থেকে মন্ট্রিয়লে যান হুয়াং। সেখানে পৌঁছে একটি গাড়ি ভাড়া করেন এবং পরিবারের সঙ্গে সাত দিনের ভ্রমণের জন্য আগাম অর্থ পরিশোধ করেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁরা মন্ট্রিয়ল, মাউন্ট ট্রেম্বল্যান্ট ও অটোয়া ঘুরে আবার কুইবেকে ফিরে আসেন। পুরো সফরে এর বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো যাত্রা ছিল না বলেই দাবি তাঁর।

ভ্রমণের দূরত্বের হিসাব রাখতে নিজের আইফোনের তথ্যও কাজে লাগান হুয়াং। তাঁর দাবি, ফোনের রেকর্ড অনুযায়ী, পুরো সফরে গাড়িতে তাঁদের যাতায়াতের দূরত্ব ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার।

কিন্তু টরন্টোয় বাড়ি ফিরে গাড়ি ভাড়ার চূড়ান্ত হিসাব হাতে পাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। আগে থেকেই প্রায় ১ হাজার ডলার পরিশোধ করা থাকলেও অ্যাভিসের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৫ হাজার ৯০০ ডলারের বিল দেওয়া হয়। কেন এত বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে, তা বুঝতে পারছিলেন না তিনি।

হুয়াংয়ের মতে, অ্যাভিসের দেওয়া দূরত্বের হিসাব সত্যি হলে গাড়িটির জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনও পড়ত। অথচ তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ভ্রমণের নথি সেই হিসাবকে সমর্থন করে না।

বিল হাতে পাওয়ার পরই তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। নিজের বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণও পাঠান সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে। অ্যাভিস অভিযোগটি তদন্ত করার আশ্বাস দেয়। তবে হুয়াংয়ের দাবি, পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি অর্থ ফেরত পাননি। বরং বিষয়টি নিয়ে আবার যোগাযোগ করলে তাঁকে নতুন করে অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়।

নিজের ভ্রমণের দূরত্বের হিসাব এবং ভাড়া সংস্থার দাবি দুটির মধ্যে এত বড় ব্যবধান কীভাবে তৈরি হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও পাননি হুয়াং। ঘটনাটি গাড়ি ভাড়ার বিলের নির্ভুলতা এবং গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে অ্যাভিসের দেওয়া দূরত্বের হিসাব কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটির চূড়ান্ত তদন্তের ফলাফলও এখানে নিশ্চিত নয়।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles