18.4 C
Toronto
শনিবার, আগস্ট ১৩, ২০২২

বুস্টার ডোজ বাংলাদেশে রোববার শুরু হচ্ছে, কোন টিকা কাদের দেয়া হবে

- Advertisement -
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বুস্টার ডোজ দেয়ার কর্মসূচি শুরু হচ্ছে

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে রোববার ঢাকার একটি কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক টিকাদানের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের বুস্টার ডোজ দেয়ার কর্মসূচি শুরু হবে এবং পরে এর আওতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একজন ডাঃ সামছুল হক বিবিসিকে বলেছেন এখন বয়স্কদের টিকা দেয়ার মাধ্যমে বুস্টার ডোজ দেয়ার কার্যক্রমের সূচনা হবে।

রোববার এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করে বুস্টার ডোজ বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক।

বাংলাদেশে ২০২০ সালের ৮ই মার্চ প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।

শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন দেশের প্রায় সাত কোটি মানুষকে করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজ এবং প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষকে দুই ডোজ করে টিকা দেয়া হয়েছে। আর প্রায় পাঁচ কোটি টিকা এ মুহূর্তে সরকারের হাতে আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুস্টার ডোজ কী, কারা পাবে
করোনাভাইরাসের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেয়া যারা সম্পন্ন করেছেন তাদেরকেই একটি নির্দিষ্ট সময় পর তৃতীয় ডোজ নিতে হবে এবং এটিকেই বুস্টার ডোজ বলা হচ্ছে।

তবে দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার কতদিন পর বুস্টার ডোজ নেয়া হবে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে যে টিকা দেয়া হয়েছিলো সেটিই তৃতীয় ডোজ হিসেবে দেয়া হবে কি-না তা এখনও নিশ্চিত নয়।

সামছুল হক অবশ্য বলেছেন রোববার যাদের টিকা দিয়ে বুস্টার ডোজের সূচনা হবে তাদের ফাইজারের টিকা দেয়া হবে, যদিও তারা আগের দুই ডোজ হিসেবে কোন টিকা নিয়েছিলেন সেটি তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

“আমরা এখন ফাইজার দিয়ে শুরু করবো। এটুকুই এখন বলতে পারছি। রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবেন আশা করছি,” বিবিসিকে তিনি বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অবশ্য আগেই এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন যে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি ও চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের বুস্টার ডোজ দেয়া হবে।

সময়ের সাথে সাথে করোনার টিকার সুরক্ষা সক্ষমতা কমে আসায় উন্নত দেশগুলো আগেই বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু করেছে।

এখন করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসার পর বাংলাদেশেও বুস্টার ডোজ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

করোনা পরিস্থিতি ও টিকার সংগ্রহ
বাংলাদেশে গত বছর ৮ই মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ১৮ই মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর দিয়েছিলো স্বাস্থ্য প্রশাসন। পরে এ বছর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যায়।

চলতি বছরের গত ৭ই জুলাই প্রথমবারের মতো দিনে মৃত্যুর সংখ্যা দুশো ছড়িয়ে যায়। বেশ কিছু সময় দৈনিক দুশো করে মৃত্যুর পর অগাস্টের মাঝামাঝি পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে।

এরপর চলতি বছরের উনিশে নভেম্বর প্রথমবারের মতো কোন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ আজ শুক্রবার দুজনের মৃত্যু ও ১৯১ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ওদিকে টিকার জন্য ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটের সাথে চুক্তি করেছিলো বাংলাদেশের বেক্সিমকো ও সরকার। ত্রিপক্ষীয় এই চুক্তির আওতায় জানুয়ারি থেকে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে আনার কথা ছিলো বেক্মিমকো। কিন্তু সিরাম সেই চুক্তি অনুযায়ী টিকা সরবরাহ করতে পারেনি ভারত সরকার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায়।

তবে এর মধ্যে বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সসহ নানা সূত্র থেকে টিকা পেতে শুরু করায় সংকট কাটিয়ে পুরোদমে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

পনেরই ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ কোটি ৭৪ লাখেরও বেশি মানুষকে প্রথম ডোজ আর দুই ডোজ দেয়া সম্পন্ন হয়েছে ৪ কোটি ৪১ লাখেরও বেশি মানুষকে। এর বাইরে প্রায় ষোল লাখ শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজ আর দুই ডোজ টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে দুই লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর।

দেশে এ মূহূর্তে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার, সিনোফার্ম, মডার্না ও সিনোভ্যাক টিকা দেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার জানিয়েছিলেন যে এ মূহূর্তে সরকারের হাতে প্রায় পৌনে পাঁচ কোটি টিকা আছে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles