
হয় সম্মুখে কিংবা পশ্চাতে অথবা অন্তরে বাহিরে কোথায় তুমি নেই যেমন হারিয়ে গেছি আমি, থেকেও নেই।
খুঁজতে খুঁজতে এতো দূরে চলে এসেছি যে ফিরে গেলে ফিরে পাবো না অ-লুকায়িত অস্তিত্ব। যদি দুফালি করতে পারি নিজেকে এক ফালি রেখে দিব পড়ার টেবিলে। অন্য ফালি বয়ে বেড়াবো নিজ হাতে। অপূর্ণতায় ভরে দিব প্রাণ মন। কোন খেদ নেই বাস্তবতার মুখ্য চরিত্রাভিনয়ে।
পালাবার অনেক পথ ছিল, গৃহস্থালিরও সখ ছিল। মাঝখানে ছিল না চাঁদ। অন্ধকারে পথ ভুলে গেছি। যেতে যেতে অনেক দূরে চলে এসেছি। এতোটাই দূর যখন নিকট হয়ে যায় অতীত।
ধরো তাজমহল দেখার জন্য দুটো টিকিট কেটে দাঁড়িয়ে আছি। আগে-পেছনে তাকিয়ে দেখি সবগুলো মানুষ অর্ধেক আছে অর্ধেক নেই। তার সাথের মানুষটাও তাই। তবুও লাইন লম্বা হয়। কেউ কেউ অতিরিক্ত টিকেট কিনে সুখ পায়। কেউ একখানা টিকিট গোপনে রেখে দেয় অন্ধ ভিখারির থালায়। আবার ভাবে উঠিয়ে নেবে। আবার ভাবে লাভ কী তাতে।
হয়তো প্রয়োজন ছিল না দুটো সিট পাশাপাশি সাজাবার। তবুও বাসে ট্রেনে একই বিন্যাস। যখন যাত্রীতে ভরে যায় সেই বাস কিংবা ট্রেন, দেখি সিটগুলো দখল হয় অর্ধেক মানুষের চাপে। গন্তব্যে গিয়ে ওরা হেঁটে যায় নিজ গলিতে। নতুন যাত্রীর আশায় চাকা ঘুরে আগমনী বার্তা ছড়িয়ে। পুনরায় পায়ে পায়ে এগিয়ে আসা মানুষগুলো যাত্রী হয়। কিছুক্ষণ আগে যে ছিল কারোর প্রিয় কিংবা প্রিয়তমা সবাই দুলতে থাকে আধখানা হয়ে।
তাহলে কোথায় গেলে পাবো সম্পূর্ণ তোমাকে আমাকে? নির্জনতায় না কি আলোতে?
যেভাবে ভঙ্গিমা কাটো সকাল দুপুর। রাত্রিতে প্রিয় সাথীর সাথে মানানসই হও। বিলিয়ে দেবার নাম করে নিয়ে আস সুখ। তার থেকে অর্ধেক নিয়ে আসো নিজের জন্য অর্ধেক রাখো ছায়া অনুভূতির কাছে। জানো কিংবা জানো না হয়তো, ঐ ঘর্মাক্ত দেহ তাও নিজের জন্য ছিল না পুরোটা, জানলেও বলে না বাকি অর্ধেক ঠিকানা।
যতোটুকু গোপন আর যতোটুকু প্রকাশিত তাও কি পুরোটা সত্য? ভেবে দেখ, কেন বলে না লোকে জল থেকে ডাঙ্গায় দৌড়োবার রহস্য। কেন দীর্ঘ পথ সংক্ষিপ্ত করে মোড় নেয় ঘরে। স্পষ্ট বোঝা যায় স্বাধীনতা ঘরে নয় থাকে বাহিরে। এ সত্য বড় সহজ তবুও খিল দেবার ব্যবস্থা ঘরে ঘরে।
যদি ফিরে আসি। যদি অন্তিম অন্ধকারে উঠান বেয়ে নেমে আসো পথে। তবে আবারও দেখা হবে। চাষাবাদ করবে অসাড় শরীর, গলে যাবে মৃত্তিকার অণু পরমাণু নিবিড় কুঞ্জে। তোমার জন্য গন্ধরাজের গন্ধ হয়ে ঢুকে যাব বৃক্ষের শেকড় বেয়ে। বিলি কেটে চুলে গুঁজবার কাজটা শুধু তোমার। কিছু কিছু দেহ ফুলের মধ্যে মিশে যায়। হাত দিলেই টের পাওয়া যায়। মানুষ তাই ফুলের গায়ে চুমু খায়। খোঁজে না দেহবিহীন চোখ চিবুক ঠোঁট। সূর্য আসবে। সূর্য ডুববে। কেউ পাবে না হারাবার কোন সূত্র।
পালিয়ে থেকেও হারায় না কাছে থাকার সাধ। একেই বলে আলো আঁধার। আছে কিংবা নেই সেই গোলকধাঁধার মত তুমিও খেলবে অনন্তকাল। দেখবে না কেউ তবুও, খুঁজবে নিজের মত করে আমাকে এবং তোমাকেও। যেন হাতের মধ্যে হাত দিয়ে রেখেছে কেউ। যে হারিয়ে যায় তারও সীমাবদ্ধতা থাকে পালাবার। কতটুকু পালাবে সে। জগতে সবাই কি হারিয়ে থাকে না? এমনকি অর্ধেক সময় নিজেরও কাছে। সেই হারানো অংশটুকুই তোমার পূর্ণতা।
স্কারবোরো, কানাডা

