
আলবার্টায় অনুষ্ঠেয় জি৭ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানানো আমন্ত্রণ প্রত্যহারে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে শিখ গ্রুপগুলো। ওয়ার্ল্ড শিখ অর্গানাইজেশন অব কানাডা এবং শিখ ফেডারেশন কানাডার প্রতিনিধিরা বৃহস্পতিবার অটোয়াতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারতের বিদেশি হস্তক্ষেপ ও আন্তঃজাতীয় নিপীড়নের গণশুনানি চান তারা।
তারা বলেন, চলমান তদন্তে সহযোগিতা এবং কানাডার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ ও কানাডায় শিখদের লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধের প্রতিশ্রুতি না দেওয়া পর্যন্ত মোদির আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা উচিত।
ওয়ার্ল্ড শিখ অর্গানাইজেশন অব কানাডার মুখপাত্র দালপ্রিত সিং বলেন, এটা কানাডার বিষয়। কিন্তু এটা কানাডার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। এটা এমনভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে যেনো এটা কেবলমাত্র সেইসব বাদামী লোকজন। এটা শিখদের বিষয় এবং কোনো বিদেশি সরকার যদি তাদের ওপর নজরদারি চালায়, তাদের হত্যা করে ও হুমকি দেয় তাহলে বলার কিছু নেই। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাবো এবং কথা বলব।
একইসঙ্গে গ্রুপটি ভারতের সঙ্গে যেকোনো ধরনের তথ্য বিনিময় এখনই বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে ২০২৩ সালে কানাডিয়ান শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মী হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকান্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) ভারত সরকারের এজেন্টদের সম্পৃক্ততা খুঁজে পান। বালপ্রিত সিং এবং শিখ ফেডারেশন কানাডার মুখপাত্র মনিন্দর সিং উভয়েই গ্লোবাল নিউজ রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, একজন ভারতীয় এজেন্ট সাবেক এনডিপি নেতা জাগমিত সিংকে ঘনিষ্ঠ নজরদারিতে রেখেছিলেন।
গ্লোবাল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লরেন্স বিশনয় গ্যাংয়ের একজন সদস্য জাগমিত সিংয়ের ওপর নজরদারি চালিয়েছিল। আরসিএমপির ভাষায়, এটা একটি অপরাধী সংগঠন, যারা ভারত সরকারের হয়ে কানাডায় সহিংসতা চালাচ্ছে।
জাগমিত সিং গত এপ্রিলে জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আরসিএমপির কাছ থেকে তিনি একটি সতর্ক বার্তা পান। কারণ, তার জীবননাশের নির্ভরযোগ্য হুমকি ছিল।
জাগমিত সিংয়ের ছোট ভাই গুরাতন সিং দি কানাডিয়ান প্রেসকে বলেন, তাদের সন্দেহ এই হুমকির পেছনে রয়েছে ভারত। কিন্তু কখনোই সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই হুমকির কারণে জাগমিতকে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে হয়েছে। এই হুমকি এতটাই বাস্তব ছিল যে, আরসিএমপির পাহারায় একটি হাসপাতালে তার কন্যার জন্ম হয়। এটা কেবল বেদনাদায়কই নয়, মনে হচ্ছে যেসব মানুষের জীবন হুমকিতে রয়েছে তাদেরকে যেনো আমরা অরক্ষিত রেখে দিচ্ছি কানাডায়।
জি৭ সম্মেলন আলবার্টার কানানাস্কিসে ১৫ জুন শুরু হয়েছে। চলবে ১৭ জুন পর্যন্ত। আর ১৮ জুন নিজ্জর হত্যাকান্ডের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

