
স্থানীয় প্রাণী প্রেমীদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ব্র্যাম্পটনের এক কুকুরখানা সংক্রান্ত ঘটনা। জেসিকা কিপেন নামের এক নারী লাইসেন্সবিহীনভাবে কুকুরখানা পরিচালনার অভিযোগে প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে ৯৬টি পৃথক অভিযোগের মুখে পড়েছেন। অভিযোগগুলো “অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাক্ট” এর অধীনে দায়ের করা হয়েছে এবং এর মধ্যে রয়েছে প্রাণীকে বিপন্ন পরিস্থিতিতে ফেলা, অবহেলা, সেবার মান বজায় না রাখা এবং অনুমতি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার মতো গুরুতর লঙ্ঘন।
প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিপেনের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় অন্তত পাঁচটি কুকুর মারা গেছে এবং আরও প্রায় ২৪টি কুকুর মারাত্মক বিপদের মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে দুটি মৃত্যুর ঘটনা সরাসরি কিপেনের দায়িত্বহীনতার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ দায়ের করা হয় ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে।
এই ঘটনার শুরু হয় কয়েকজন কুকুর মালিকের অভিযোগ থেকে। গত জুনে দুজন মালিক জানান, তাদের কুকুর কিপেনের কুকুরখানায় রেখে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যে মারা যায়। একজন মালিক জেনুইন মনরো জানান, তার প্রিয় কুকুর “বুডগ” এক রাতে কিপেনের বাড়িতে মারা যায়। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, সে মারা গেছে। এখনো আমি তাকে ফ্রিজারে রেখেছি।”
মনরো আরও জানান, তারা কিপেনের বাড়ির ভেতরে ভিডিও ধারণ করেছিলেন যেখানে দেখা গেছে অব্যবস্থাপনার চিত্র। ভিডিওতে দেখা গেছে পর্যাপ্ত এয়ার কন্ডিশনিং নেই, কুকুর রাখার জন্য পর্যাপ্ত ক্রেটও ছিল না। মনরো এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে, আরেকজন মালিক জানান যে একই দিনে তার কুকুরটিও কিপেনের বাড়িতে মারা যায়। এ খবর দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং প্রতিবেশীরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে শুরু করেন।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, কিপেনের বাড়িটি বহু বছর ধরেই সমস্যাজনক ছিল। একজন অবসরপ্রাপ্ত স্টেলকো কর্মী জানান, তিনি বহুবার প্রভিন্সিয়াল অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার সার্ভিস (PAWS) এবং হ্যামিল্টন সিটির কাছে অভিযোগ করেছিলেন। হ্যামিল্টন সিটি কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে, কিপেন কমপক্ষে ছয়টি আইন লঙ্ঘন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নবায়ন না করা, নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি কুকুর রাখা এবং লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করা।
সিটি আরও জানিয়েছে যে, বর্তমানে যে স্থানে কুকুরখানা পরিচালিত হচ্ছে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত নয়। অতীতে কিপেনকে লাইসেন্সবিহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় প্রাণী অধিকার সংস্থা বলছে, এই ঘটনা অন্টারিওর প্রাণী কল্যাণ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগের ঘাটতি প্রমাণ করেছে। তারা দাবি করছে, অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সব লাইসেন্সবিহীন কুকুরখানা বন্ধ করতে হবে। সংস্থাগুলি সতর্ক করেছেন, কেবল দায়েরকৃত অভিযোগের সংখ্যা নয়, বরং কুকুরদের নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষার জন্য নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত জরুরি।
জেসিকা কিপেনের কুকুরখানা সংক্রান্ত এই ঘটনা শুধু প্রাণী কল্যাণ ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত বিষয়টি অনিশ্চিত থাকলেও ইতিমধ্যেই জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লাইসেন্সবিহীন ও অপর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কুকুরখানা বন্ধ করার জন্য প্রাদেশিক সরকারের উচিত আরও কার্যকর নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

