16.5 C
Toronto
শুক্রবার, অক্টোবর ৭, ২০২২

মাথার খুলি পেটে নিয়ে কেমন আছেন আকিব

- Advertisement -

মাথার খুলি পেটে নিয়ে কেমন আছেন আকিব - the Bengali Times

‘হাড় নেই, চাপ দেবেন না’- মাহাদি জে আকিবের মাথার ব্যান্ডেজের ওপরে চিকিৎসকদের লেখা ওই শব্দগুলো কিছুটা মলিন হয়ে পড়েছে। মাথার খুলি পেটে নিয়েই গ্রামে বসে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের। গত ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আকিব। মাথা থেঁতলে ভেঙে যায় খুলি। প্রায় অনিশ্চিত অবস্থা থেকে প্রথম দফা অস্ত্রোপচার করে চিকিৎসকরা অবশ্য সফল হন।

জ্ঞান ফিরে আকিবের। ধীরে ধীরে হাঁটাচলা- এমনকি খাওয়া-দাওয়াও করতে পারেন এখন। কিন্তু ভেঙে যাওয়া খুলিটি মাথায় প্রতিস্থাপনের মতো শারীরিক উন্নতি না হওয়ায় তাকে তিন মাস অপেক্ষা করতে বলেন চিকিৎসকরা। ওদিকে খুলিটি তাজা থাকার জন্য সেটি রাখা হয় আকিবের পেটের চামড়ার নিচে।
আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে ওই দিন চমেক ছাত্রলীগের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল এবং সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মামলা হয় তিনটি। পরে এ ঘটনায় কলেজ থেকে ছাত্রলীগের ৩১ জনকে বহিষ্কার করা হয়, যাদের মধ্যে আছেন মাহাদি জে আকিবও। ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকে চমেক।

সেই আকিব এখন গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বাদুরতলায় অপেক্ষা করছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তার বাবা স্কুলশিক্ষক গোলাম ফারুক মজুমদারের সঙ্গে ছেলের চিকিৎসা ও বহিষ্কারের বিষয়ে কথা হয়। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘আকিব এখন অনেকটা সুস্থ। নিজে নিজে হাঁটতে পারছে। স্বাভাবিক খাবারও খাচ্ছে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে এখনো পড়ালেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে তার মস্তিষ্কে চাপ পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। আমরা প্রতিনিয়ত চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’

অস্ত্রোপচারের পর পর চিকিৎসকরা বলছিলেন- সংঘর্ষে আকিবের মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এর পর্দার ওপরে ও নিচে ইনজুরি হয়েছে। এ ধরনের রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশই মারা যায়। এ অবস্থায় আকিব সুস্থ হলেও তার কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কে আঘাতের কারণে এখন কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা- প্রশ্ন করা হলে আকিবের বাবা গোলাম ফারুক মজুমদার বলেন, ‘শারীরিক দুর্বলতা ছাড়া আর কোনো সমস্যা এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি। তবে বেশি কথা বললে একটু সমস্যা হয়। পড়ালেখা করলে সমস্যা হবে কিনা সেটিই এখন আমাদের ভাবনার বিষয়।’

চিকিৎসকরা কবে হাড় প্রতিস্থাপন করবেন- সে বিষয়ে গোলাম ফারুক বলেন, ‘চিকিৎসকরা তো বলেছেন, তার দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার করতে তিন মাস সময় লাগবে। তবে দ্রুত সুস্থ হলে আরও কম সময়ে চিকিৎসা শুরু হবে।’ আকিবকে কলেজ থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো ছেলের কলেজে যাইনি। আগে ছেলের সুস্থতা, পরে এসব নিয়ে চিন্তা করব। আর আমার ছেলে তো এসব বিষয়ে জড়িত না।’

এদিকে চমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রঞ্জন কুমার নাথ বলেন, ‘আকিবকে আইসিইউ থেকে যখন ছাড়পত্র দেওয়া হয় তখন কিছু নিদের্শনাও পালন করতে বলা হয়। এখন তিনি আমাদের নিদের্শনা ও পরমার্শ মতো চলাফেরা করছেন। আমরা প্রতিনিয়ত তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এখন অনেকটা সুস্থ আছেন। তবে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার করতে আরও কিছু দিন সময় লাগবে।’

Related Articles

Latest Articles