21.7 C
Toronto
মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

হার না মানা কুবির এক শিক্ষার্থীর গল্প

- Advertisement -

নিশাত তারান্নুম ইশিতা। পড়ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের গণিত বিভাগের ৪র্থ বর্ষে। সহপাঠীরা যখন কাগজ-কলম নিয়ে ব্যস্ত, তখন তিনি ব্যস্ত সন্তানের ডায়পার, খাবার বাটি নিয়ে। এক দিকে পরিবার-সন্তান, অন্যদিকে ক্লাস, পরিক্ষা, এসাইনমেন্ট। এতসব কিছুও একসাথে মানিয়ে চলছেন। ২য় বর্ষে থাকাকালীন পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ইশিতা। স্বামী ডক্টর অব ভেটেনারী মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে এক্সিকিউটিভ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। ইশিতার পারিবারিক ও বিভিন্ন কাজে হাত বাড়িয়ে দেন তার স্বামী। তবে মাঝে মধ্যে একা সামলানো খুব কষ্ট হয়ে যায়। তবুও তিনি খুশি সন্তান ঈশাল কে নিয়ে।

করোনা শাপেবর হয়ে এসেছিল ইশিতার জীবনে। এসময়ে সবাই বিষন্ন থাকলেও অনলাইন ক্লাস ইশিতার জীবনকে কিছুটা সহজ করে দিয়েছিলো। যেখানে বর্তমানে সশরীরে ক্লাস করতে গিয়ে কিছুটা হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। ফলে নিয়মিত ক্লাস করতে পারছে না। এমনি কি ২য় সেমিস্টারের সময় সন্তান কে নিয়ে পরিক্ষা দিয়েছেন। তবুও থেমে নেই ইশিতার পড়াশোনা।

সন্তান গর্ভে আসার পর কীভাবে চালিয়েছেন পড়াশোনা? এমন প্রশ্নে ইশিতা বলেন, এসময় দেশে করোনা ধরা পড়ায় দেশজুড়ে লকডাউন জারি করা হয়। ফলে আমার স্বামী আমাকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করেছেন। আর অনলাইনে ক্লাস হওয়ায় ততটা বেগ পেতে হয়নি আমাকে। কারণ ক্লাস, এসাইনমেন্ট এবং মিড টার্মসহ সবকিছু অনলাইনে হওয়াতে খুব ভালোভাবে সময়টা উপভোগ করতে পেরেছি। নিজের ভবিষ্যত নিয়ে ইশিতা বলেন, সবাই স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখতে নেই মানা। আমিও দেখি। একদিন নিজেকে একজন সফল নারী হিসেবে দেখতে চাই। যাতে আমার পরিবার, সন্তান ও স্বামী আমাকে নিয়ে একদিন গর্ব করে বলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইশিতা বলেন, একজন মায়ের দায়িত্ব কি তা বলে শেষ করা যায় না। আমার সন্তান ঈশাল গুটিগুটি করে ১১ মাস পার করেছে। একদিকে তার চঞ্চলতা যেমন বাড়ছে আমার দায়িত্বও তেমনি বেড়েই চলছে। পড়াশোনার পাশাপাশি আমার সময়গুলো সন্তানের পিছনেই দেওয়ার চেষ্টা করি। একজন মা হিসেবে পড়াশোনার পাশাপাশি সমানতালে সন্তানকে সময় দেওয়ার একটু কষ্টকর, তবে চেষ্টা করলে সব সম্ভব। তাই নিজের উপর অটুট বিশ্বাস রাখি যে পড়াশোনা ও সন্তান কে সমানতালে এগিয়ে রাখতে।

এই নিয়ে গণিত বিভাগে তার সহপাঠী রায়হান খান জানান, ইশিতা একজন উদ্যমী ও পরিশ্রমী মেয়ে। আমরা স্বাভাবিক ভাবে দেখি একজন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে পড়াশোনা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ইশিতা একটা বিকল্প ধারার একটা মেয়ে। এত কিছু কিভাবে সামলাচ্ছে সেটা দেখে আমরা অবাক হয়ে যায়। এমনকি তার একাডেমিক রেজাল্টও ভালো। একটা মেয়ে বিবাহ পর রেজাল্ট ধরে রাখা খুব কষ্টকর। যেটা ইশিতার পক্ষে সম্ভব। আসলে তিনি আমাদের দেখা একজন দায়িত্ববান মায়ের উদাহরণস্বরূপ।

সূত্র : বিডি২৪লাইভ

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles