27.8 C
Toronto
শনিবার, জুলাই ১৩, ২০২৪

দুঃখ কষ্ট মৃত্যু

দুঃখ কষ্ট মৃত্যু
দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন বিশ্বখ্যাত ফটোগ্রাফার রঘু রাইয়ের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন শরণার্থীদের দুঃখ কষ্ট মৃত্যুর ঐতিহাসিক দলিলের মত ফটো সম্পদ নিয়ে রাইজ অফ এ নেশান নামে প্রদর্শনী ও বিশ্বমানের বই প্রকাশ করেছেন

দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন বিশ্বখ্যাত ফটোগ্রাফার রঘু রাইয়ের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন শরণার্থীদের দুঃখ কষ্ট মৃত্যুর ঐতিহাসিক দলিলের মত ফটো সম্পদ নিয়ে ‘রাইজ অফ এ নেশান’ নামে প্রদর্শনী ও বিশ্বমানের বই প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের চারুকলা অনুষদের ৭৫তম বার্ষিকীতে জয়নুল গ্যালারীতে ৫-১৯ মে প্রদর্শনীও হয়ে গেলো। সরকারি ভাবে যা হতে পারতো স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনের দীর্ঘ সময়ে,আরো আগে! শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবে পরিণত করলেন দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। সে জন্যে অনেক সাধুবাদ ও ধন্যবাদ রইলো তাদের।ভাগ্য ভালো ৮০ পার করা রঘু রাই দারুণ সুস্থভাবে বেঁচে আছেন এবং ঢাকায় এসে তার ঐতিহাসিক ছবিগুলোর প্রদর্শনী দেখলেন। হাতে নিলেন তার ছবিগুলো নিয়ে প্রকাশিত দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের বিশ্বমানের বিশাল বই।

এ রঘু রাইয়ের কাছে বাঙালিদের এক বড় ঋনের কিছুটা শোধ করার মত ব্যাপার। রঘু রাই ছাড়া বাংলাদেশর এই শরণার্থীকালে এত বড় ঐতিহাসিক ছবির ভান্ডার বিশ্বের আর কোন ফটোগ্রাফারের নেই। আমার চোখে ভাসছে ‘রাইজ অব দ্য নেশান’ বইটি টরন্টোর বিখ্যাত রম রয়েল অন্টারিও মিউজিয়ামের এবং এজিও আর্ট গ্যালারী অফ অন্টারিওর বুক সেল্ফে অন্যান্য দেশের বইয়ের পাশে বাংলাদেশের গর্ব নিয়ে দৃশ্যমান থাকবে ।এতে বোঝা গেলো দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন যা করে তা বিশ্বমানের করে। দেশের গর্বের কথা মাথায় রেখে করে।

- Advertisement -

আমি প্রথম ৮০ দশকের শুরুর দিকে রুঘু রাইয়ের নাম শুনি বাংলাদেশের আধুনিক ফটোগ্রাফীর জনক আনোয়ার হোসেনের মুখে। আমি ডলি ভাবীর মহাপ্রিয় এবং আনোয়ার হোসেনদের পারিবারিক বন্ধু ছিলাম। দেখেছি আনোয়ার ভাই আন্তর্জাতিক একের পর এক গোল্ড- সিল্ভার পুরস্কার জিতে বাংলাদেশকে বিশ্ব ফটোগ্রাফী জগতে এক সন্মানের জায়গায় নিয়ে গেছেন। সেই আনোয়ার ভাই রঘু রাইয়ের অন্ধভক্ত। আনোয়ার ভাই রঘু থেকে বয়সে ছোট ছিলেন। তিনি যখন ভারতের পুনেতে সরকারী বৃত্তিতে সিনেমা ফটোগ্রাফীতে পড়াশোনা করছেন।

তখন এক বড় ছুটিতে দিল্লী গেলেন শুধু রঘু রাইয়ের সাথে দেখা করতে। স্টেটসম্যান পত্রিকায় তখন রঘু রাই ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন। এই রুম ঐ রুম ক্যান্টিন কোথাও তার ফটোগ্রাফীর ইশ্বর রঘু রাইকে না পেয়ে ফেরার পথে দেখেন আধোআঁধারী পেছন বারান্দার মোটা পিলারে হেলান দেয়া খুবই সাধারণ সার্ট প্যান্ট পরা একজন কেউ বিড়ি টানছে। সাধারণ কোনো কর্মচারী ভেবে বেশ জোরে জানতে চাইলেন -রঘু রাই স্যারকে কোথায় পাবো বলতে পারেন? লোকটি বিড়ি ফেলে পা দিয়ে পিষে হেসে বলে ছিলেন – আপনার সামনে দাড়িয়ে আছি! বলুন তরুণ, রঘু রাইকে কেন খুঁজছেন? সেই থেকে তাদের সখ্যতা। আরো পরে বছর দশেক হবে হযতো, আমারও সৌভাগ্য হয়ে ছিলো ঢাকায় ধানমন্ডির বেঙ্গল গ্যালারীতে তার সাথে দেখা এবং কথা বলার। আমার মুখে আনোয়ার হোসেনের কথা শুনে তিনি জিজ্ঞেস করলেন – আনোয়ার কেমন আছে?কোথায় আছে,প্যারিসে নাকি ঢাকায়? বলে ছিলাম জানি না।

আমি মিথ্যা বলেছিলাম। তাকে বলতে ইচ্ছে করেনি আনোয়ার ভাইকে তার দ্বিতীয় ফরাসী স্ত্রীও তাড়িয়েছেন প্যারিস থেকে। গত মাসেই আমার সাথে কাকতালিয় ভাবে জাতীয় জাদুঘরে লুবনা মরিয়ামের দলের এক নাচের অনুষ্ঠানে দেখা হয়ে ছিলো আনোয়ার ভাইয়ের সঙ্গে। লুবনার অনুরোধে শরিয়াতপুরের ডিসি তাকে সঙ্গে করে নিজের গাড়িতে নিয়ে এসেছেন। আনোয়ার ভাই বল্লেন – জানো ইকবাল আমি শরিয়াতপুরে খুব শান্তিতে আছি। সারা রাত অপেক্ষায় থাকি সকালে দরজা খুললে দেখি বাদুড়রেরা কত ধরণের ফল আমার জন্যে রেখে গেছে। সে সব খেয়ে বড় শান্তিতে আছি। পরে অবশ্য ডিসি সাহেব চাপা স্বরে আমাকে বল্লেন-আমি আমার লোকদের বলেছি প্রতি রাতে ওনার বন্ধ দরজার সামনে ফলমূল রেখে আসতে।

রঘু রাইকে আনোয়ার ভাই প্রসঙ্গ থেকে সরাতে আমি প্রশ্ন করে ছিলাম-যুদ্ধের সেই সময় ভারতের বাংলাদেশী শরণার্থী ক্যাম্প গুলোতে গোটা বিশ্বের কত দেশের ফটোগ্রাফর এসে ছিলো,সারা ভারতের ও ফটোগ্রাফার এসে ভীড় করে ছিলো নানা শরণার্থী ক্যাম্পে। তবে কেউ আপনার মত দিনরাত উজাড় করে নিজের প্রাণ ঝুঁকিতে ফেলে ক্যাম্প থেকে ক্যাম্পে ঘুরে-ঘুরে মাসকে-মাস হাজার-হাজার ছবি তুলেছেন নাই! এমনতো কেউ করেনি! আপনি করেছেন। তার কি কোনো কারণ আছে?

রঘু রাই বল্লেন – আছেতো! আমার ফিলিং। আত্মিক সম্পর্ক। তাদেরকে আমরই আত্মীয় স্বজন মনে হয়ে ছিলো। আমাকেও তাদের মত ৫বছর বয়সে হঠাৎ উদয় পাকিস্তান ছেড়ে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আসতে হয়ে ছিলো। ভুলিনি কিছু তাই একাত্ম বোধ করে এতো ছবি তুলতে গিয়ে ছিলাম।

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles