
ভারতীয় বংশোদ্ভূত গ্যাংস্টার সতীন্দারজিত সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে শিখ নেতা হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের সঙ্গে তার নাম উঠে এসেছে। এফবিআইয়ের শীর্ষ ১০ পলাতক অপরাধীর তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাকে।
৩২ বছর বয়সী ব্রারকে লরেন্স বিশনয় অপরাধী গোষ্ঠীর উত্তর আমেরিকায় সক্রিয় অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযোগ, এই গোষ্ঠী হত্যা, চাঁদাবাজি, গুলিবর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণনাশের হুমকির মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এফবিআইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্রার অত্যন্ত সহিংস, সশস্ত্র ও বিপজ্জনক ব্যক্তি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এবং কানাডার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে তদন্তকারী সংস্থাটি।
এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ড অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি বলেন, ব্রারকে গ্রেপ্তার করা এফবিআই ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। তাকে শীর্ষ ১০ পলাতকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি গ্রেপ্তারে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
ভারতীয় অপরাধজগতে লরেন্স বিশনয় একটি পরিচিত নাম। কারাগারে বন্দী থাকা সত্ত্বেও তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর প্রভাব বজায় রেখেছেন বলে বিভিন্ন তদন্তে অভিযোগ উঠেছে। ব্রারকে এই গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং উত্তর আমেরিকায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সন্দেহ করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক এক ব্যক্তি ব্রারকে বিশনয়ের ডানহাত হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের বিস্তারিত প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ছাড়া অভিযোগটির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায় না।
কানাডায় অবস্থানকালে ব্রারের নাম বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ১৮ জুন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কথিত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। কানাডায় সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা এবং আন্তদেশীয় অপরাধের বিস্তার নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর উদ্বেগের মধ্যে ব্রারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
এফবিআইয়ের পুরস্কার ঘোষণার লক্ষ্য হলো ব্রারের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তা পাওয়া। তবে পুরস্কার ঘোষণা বা পলাতক তালিকায় নাম থাকা নিজে থেকে কোনো অভিযোগের বিচারিক প্রমাণ নয়। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

