23.3 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০২৪

বেরিয়ে আসছে কেএনএফের ব্যাংক লুটের পুরো ছক

বেরিয়ে আসছে কেএনএফের ব্যাংক লুটের পুরো ছক

বান্দরবানের থানচি ও রুমায় ব্যাংকে হামলা-লুটের ঘটনায় অংশ নেয় কেএনএফের শীর্ষ নেতারাও। এমনই ৭ জনকে শনাক্ত ও আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

- Advertisement -

ব্যাংকে হামলার কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ বলছে, অস্ত্র হাতে একের পর এক ইউনিফর্ম পরা কেএনএফ সদস্য ঢুকছে ব্যাংকে। এ যেন কোনো সিনেমার দৃশ্য।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৩ এপ্রিল দুপুর ১২টা ৩৭ মিনিট। একে একে সন্ত্রাসীরা ঢুকে পড়ে, তখন ব্যাংকের ভেতরে গ্রাহকদের ভিড়। অস্ত্রহাতে সন্ত্রাসীদের দেখে হতভম্ব গ্রাহকরা। এ সময় হাত উঁচিয়ে কাউকে দাঁড়িয়ে বা কাউকে বসে থাকতে বাধ্য করে সন্ত্রাসীরা। খুঁজতে থাকে ভল্ট আর ক্যাশ। এরপর সবমিলিয়ে মিনিট দশেকের মতো ত্রাস চালিয়ে টাকা নিয়ে বেরিয়ে যায় কেএনএফ সদস্যরা। একই সময়ে লুট চালানো হয় পাশের কৃষি ব্যাংকেও।

২ এপ্রিল রাতে রুমা সদরে সোনালী ব্যাংকের ভেতরে অস্ত্র নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে কেএনএফ সদস্যরা। নানাভাবে চেষ্টা করছে ভল্ট ভাঙার। যদিও সেদিন তা ভাঙতে না পেরে অপহরণ করে নিয়ে যায় ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, সিসিটিভি ক্যামেরার এসব ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুটি উপজেলায় সোনালী এবং কৃষি ব্যাংকের তিনটি শাখায় কেএনএফের হামলা-লুটের ঘটনার পুরো ছকই এখন তাদের কাছে পরিষ্কার। এতে উঠে এসেছে হামলার বিস্তারিত।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনা বলেন, আমরা যাদের সরাসরি পাবো, তাদের বক্তব্য এবং শারীরিক উপস্থিতি যাচাই করে অপরাধীদের শনাক্ত করবো। এরই মধ্যে কয়েকজন নারীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করবো। পরে আরো আটক করা হবে।

তিনটি ঘটনায় অংশ নেয় কেএনএফের ৫০ থেকে ১০০ সদস্য। যেখানে সংগঠনটির পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি ছিল নারীরাও। ছিল বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাও। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এখন চেষ্টা চলছে নজিরবিহীন এ হামলার নেপথ্যে কারণ খোঁজার।

ডিআইজি নুরে আলম মিনা বলেন, আটককৃতদের মধ্যে একজন নেতা রয়েছে। বাকি ৫ থেকে ৬ জন বাহিনীটির কর্মী। নেতারা কর্মীদের আশ্রয় ও তথ্য দেয়।

কেএনএফের সোর্স হিসেবে কাজ করা বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে যৌথ বাহিনী। এরই মধ্যে আটক হয়েছে সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা। আরো কেউ কেএনএফকে সহযোগিতা করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে বিভিন্ন সংস্থা।

ডিআইজি নুরে আলম মিনা বলেন, পিবিআিই, সিআইডি আমাদের সহায়তা করছে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান হচ্ছে। এতে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সম্পৃক্ত আছে।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটক ৬০ জনের মধ্যে কয়েকজনকে মঙ্গলবার বান্দরবান আদালতে হাজির করা হয়। পাশাপাশি থানচি, রুমাসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে যৌথ বাহিনীর অভিযান।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles