20.9 C
Toronto
শনিবার, জুন ২২, ২০২৪

স্ত্রীর টিকটক সহ্য হয়নি স্বামীর, তাই প্রাণ দিতে হলো রিনাকে

স্ত্রীর টিকটক সহ্য হয়নি স্বামীর, তাই প্রাণ দিতে হলো রিনাকে
<br >চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গৃহবধূ রিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গৃহবধূ রিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পার হলেও এখনও গ্রেফতার হননি প্রধান অভিযুক্ত স্বামী হাবিবুর রহমান। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। মূলত টিকটক করা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরেই নাকি রিনাকে প্রাণ দিতে হলো বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গৃহবধূ রিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ছবি: সময় সংবাদ

- Advertisement -

রোববার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এসময় নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে ঘাতককে দ্রুত সময়ের মধ্যে আটক করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে।

এর আগে গত শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) রাতে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের সুরসই গ্রামে স্বামী হাবিবুর রহমানের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতের শিকার হন স্ত্রী রিনা আক্তার (২৫)। এতে মারাত্মকভাবে জখম হলে প্রথমে রিনাকে এলাকার একটি ক্লিনিকে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রিনা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রিনা আক্তারের বাবা বিল্লাল হোসেন জানান, মাত্র দুই মাস আগে তার মেয়ের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে স্বামী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে রিনার বিরোধ শুরু হয়। এরমধ্যে গত ১৭ অক্টোবর তার মেয়ে রাগ করে স্বামীর বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে যায়। মাত্র তিনদিন আগে তার মেয়ে আবার ফিরেও আসে স্বামীর বাড়িতে।

তিনি আরও জানান, মেয়ে ফিরে আসার পর আবারও হাবিবুরের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। আর এরই জের ধরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে রিনাকে হত্যা করে হাবিবুর।

এদিকে, মেয়ে হত্যার অভিযোগ এনে জামাতা হাবিবুরসহ পাঁচজনকে আসামি করে শাহরাস্তি থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন বাবা বিল্লাল হোসেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত মূল আসামিসহ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাবিবুরের এক প্রতিবেশী জানান, রিনা আক্তার ছিলেন হাবিবুর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি টিকটক নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। এ নিয়ে বিয়ের পর থেকে স্বামীর সঙ্গে তার বিরোধ এবং ঝগড়াঝাটি চলতো। যার জের ধরে বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামীর বাড়ি থেকে ঢাকা চলে যান রিনা। আবার ফিরেও আসেন। কিন্তু ফের ঝগড়াঝাটি হলে শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।

রোববার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যা মামলার আসামিদের আটক করার নির্দেশ দেন। তার সঙ্গে ছিলেন সংশ্লিষ্ট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেজওয়ান সাঈদ, শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles