‘হিডের চামড়া খুলি আঁকি নুন মরিচ দিমু’ হুমকি ছাত্রলীগ নেতার

- Advertisement -
প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল করিম নিশান

‘হিডের চামড়া খুলি আঁকি নুন, মরিচ দিমু, আপনার ছেলেরে আঁকি নুন মরিচ লাগামু’— এভাবেই পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ঋণগ্রস্থ এক ছেলের রিকশাচালক বাবাকে প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল করিম নিশান।

সোমবার (১লা নভেম্বর) দুপুরে ছেলের কাছে ঋণের টাকা পাওয়ার দাবী করে তা পরিশোধ না করায় রিকশাচালক বাবার বসতঘরের চালের টিন খুলে নেয় এলাকার কয়েক জন যুবক।

- Advertisement -

পরে পুলিশের উদ্যোগে সেই টিন লাগাতে গেলে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সামনেই ভুক্তভোগী ওই রিকশাচলক আবদুর রহিমের সাথে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন ছাত্রলীগের এই নেতা। সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত না মানায় এমন হুমকি-ধমকি দেন তিনি।

এসময় তিনি উত্তেজিত হয়ে আরো বলেন, ‘তাদেরকে টাইম দেয়া হয়েছে। তারা সেটা না মানায় পাওনাদাররা তাদের ঘরের চালের টিন খুলে নিয়েছে। ঘটনার দু’দিন পরই আমি তাদের ঘরের চালের টিন লাগিয়ে ফেলতে বলেছি। কিন্তু তারা তা না মেনে পুলিশ ও সাংবাদিক এনে চালের টিন লাগাচ্ছে।’

এসময় উপস্থিত দুইজন প্রতিবেশি তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তাদেরকেও গালমন্দ করে দেখে নেয়ার হুমকি দেন তিনি। শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ছেলে আবুল কাশেমের কাছে পাওনা টাকার দাবী তুলে তাকে না পেয়ে রিকশাচালক বাবা আবদুর রহিম (৭৫) এর বসতঘরের চালের টিন খুলে নেয় একই এলাকার কয়েকজন যুবক। এ ঘটনার পর তিনদিন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করে ওই রিকশাচালকের পরিবার। রোববার (৩১ অক্টোবর) ‘ঋণগ্রস্থ ছেলে, পাওনাদাররা খুলে নিলো রিকশাচালক বাবার বসতঘরের টিন’ শিরোনামে সময় সংবাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামানের দৃষ্টি গোচর হয়।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সদর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন তিনি।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানালে তিনি ওই রিকশা চালকের ঘরের চালের টিন লাগানোর ব্যবস্থা করে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১লা নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এমদাদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা সেই রিকশাচালক বাবার বসতঘরের চালের টিন লাগিয়ে দেন।

সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিকশাচালক আবদুর রহিম বাদী হয়ে অভিযুক্ত ইলিয়াসকে প্রধান করে ৬ জনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করলেও বাদযায় হুমকি-ধমকিদাতা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকরে নাম। পরে এ মামলায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামী ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেন লক্ষ্মীপুর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এমদাদুল হক।

রিকশাচালক আবদুর রহিম লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের দক্ষিণ মজুপুর এলাকার ইসহাক ব্যাপারী বাড়ির বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃত আসামী ইলিয়াস একই এলাকার মো. সিরাজের ছেলে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles