22.1 C
Toronto
সোমবার, মে ২০, ২০২৪

লাপাত্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কেন বরখাস্ত করল চীন

লাপাত্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কেন বরখাস্ত করল চীন

চীনের রাজনীতিতে উদীয়মান তারকা হিসেবে বিবেচিত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংকে প্রায় একমাস নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে অব্যাহতি দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলো। মার্কিন রাষ্ট্রদূত থেকে সরাসরি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে কিনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন স্বয়ং শি জিনপিং। কিন্তু কি এমন ঘটলো হঠাৎ এমন পরিবর্তন?

- Advertisement -

কিন গ্যাংয়ের অপসারণ নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ায় আলোচনা চললেও নীরব চীন। দেড় বছর আগে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কিন গ্যাংয়ের অপসারণের খবরটি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার সন্ধ্যার টেলিভিশন খবরে প্রকাশ করা হয়।

প্রায় একমাস আগে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি আঞ্চলিক জোটের শীর্ষ কূটনীতিকদের সম্মেলনের পর থেকে জনসমক্ষে কুব একটা দেখা যায়নি কিনকে। অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে তার স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পার হওয়ার পরেও যখন তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল না, তখন ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার তৈরি হয়েছিল যে, রাজনৈতিক কোন কারণে হয়তো তাকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে একটি গুজব ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। সেটি হলো একজন টেলিভিশন উপস্থাপিকার সঙ্গে কিনের প্রেম। তার জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ওই উপস্থাপিকাও হঠাৎ করে অদৃশ্য।

চীনের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, একই সময়ে এই দুটি ঘটনার সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে কমিউনিস্ট পার্টিতে তার বিরোধী পক্ষ নৈতিকতার কারণ দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।

এ ধরনের সম্পর্ক থাকাটা চীনে বেআইনি নয়, কিন্তু একে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে দেখা হতে পারে। আবার স্বাস্থ্যগত জটিলতার যে কথা বলা হয়েছে, সেটাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাবে না। আসলে কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত চীনের শাসন ব্যবস্থার অস্বচ্ছতার কারণে এসব সম্ভাবনার কথা যেমন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, আবার একেবারে উড়িয়েও দেয়া যায় না।

কিন গ্যাংয়ের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় সবাই অবাক হয়েছে এই কারণে যে, তার পেছনে চীনের সব ক্ষমতাবান ব্যক্তির সমর্থন আছে বলে মনে করা হতো। যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করার সময় তাকে ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন শি জিনপিং। এরপর থেকে বিশ্লেষকরা তার দিকে নজর রাখছিলেন যে, নতুন দায়িত্বে তিনি কতটা কঠোর বা ‘উলফ ওয়ারিওর’ হয়ে উঠতে পারেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিসে কারজ করার সময় থেকে চীনের সমর্থনে কঠোর অবস্থান নেয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন কিন। সেই সঙ্গে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন, যিনি অন্যদের আকর্ষণ ধরে রাখতে পারেন।

ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে সক্ষমতা এবং উৎসাহী ক্রীড়া অনুরাগী কিন গ্যাংকে যুক্তরাষ্ট্রে এনবিএ খেলার সময় ফ্রি থ্রো লাইন থেকে শট নিতে দেখা গেছে। অথবা তার আগে যুক্তরাজ্যে দায়িত্ব পালনের সময় তার প্রিয় দল আর্সেনালের পক্ষে উল্লাস করতে দেখা গেছে।

হয়তো চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কোন কোন নেতা এ ধরনের ব্যক্তিকে যথেষ্ট কঠোর বা ‘নেকড়ে যোদ্ধা’ বলে মনে করছেন না।

তার সঙ্গে যতবার বিবিসি সংবাদদাতার দেখা হয়েছে, ততবার তিনি অত্যন্ত জোরের সাথে নিজের দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং অন্যদের কাছে যতটা সম্ভব ভালোভাবে দেশকে উপস্থাপন করেছেন।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির যে ধরনের আধুনিক, মার্জিত কর্মী দরকার ছিল, তিনি সেরকম একজন বলেই মনে করা হচ্ছিল, যাকে তারা নানাভাবে ব্যবহার করতে পারতো। কিন্তু এখন কিন গ্যাংয়ের ভাগ্যে কি ঘটবে, তা কারো জানা নেই। তার সম্পর্কিত তথ্য এর মধ্যেই চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। একে যেভাবেই নেওয়া হোক না কেন, এর ফলাফল ভালো হতে পারে পারে না।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles