সাবেক স্ত্রীকে খুন করতে গিয়ে অন্য নারীকে খুন

- Advertisement -

প্রতীকী ছবি

স্ত্রী শেফালী বেগমের সঙ্গে দেড় বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল সেকুল মিয়ার। কিন্তু সেকুল মিয়া শেফালী বেগম আবারও বিয়ে ও সংসার করার জন্য চাপ দিতে থাকে। সেই সুযোগে শেফালী পুনরায় সংসার করবে এই আশ্বাসে কয়েক দফায় শেকুল মিয়ার কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে শেফালী শেকুল মিয়াকে বিয়ে না করে অন্য এক লোককে বিয়ে করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শেফালীকে হত্যার পরিকল্পনা করে শেকুল মিয়া।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় অবস্থান নেন সেকুল মিয়া। এ সময় আশেয়া সিদ্দিকা নামে বোরকা পরিহিত এক নারীকে শেফালী মনে করে তাকে কুপিয়ে আহত করেন তিনি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে আয়েশার মৃত্যু হয়।

- Advertisement -

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান জানায়, আয়েশার পিঠে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাত আছে। জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছিল। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, সেকুল মিয়া যখন আয়েশাকে কোপাচ্ছিলেন তখন তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন এবং সেকুল মিয়াকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেকুল মিয়াকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় নিয়ে যায়।

- Advertisement -

মারা যাবার আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়েশা পুলিশকে জানান, আমি বাসার সামনে থেকে রিকশা নিয়ে ঢাকা উদ্যান হয়ে মোহাম্মপুর বেড়িবাঁধে গার্মেন্টে যাচ্ছিলাম। পথে নবোদয় হাউজিং বাজারের কাছে আসলে দুই যুবক রিকশা থেকে নামিয়ে একজন আমাকে ধরে রাখে আরেকজন ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। এ সময় আমি চিৎকার করলে তারা পালিয়ে যায়। তাদেরকে আমি চিনতে পারি নাই। তবে আমার কাছ থেকে তারা কিছুই নেয়নি।

- Advertisement -

মৃত আয়েশার বোন খালেদা আক্তার জানান, তাদের বাসা আদাবর নবীনগর হাউজিং এলাকায়। আয়েশা মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার সাইনেস্ট গ্রুপ গার্মেন্টে চাকরি করতেন। তার স্বামী রুবেল ঢাকা উদ্যানে ইলেক্ট্রিকের কাজ করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায়।

খালেদা বলেন, আজ আয়েশার গার্মেন্ট খোলা ছিল। ভোরে বাসায় রান্না করে স্বামীকে ভাত দিয়ে গার্মেন্টে যাচ্ছিল আয়েশা। পরে জানতে পারি কে বা কারা রিকশা থেকে নামিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করেছে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল লতিফ জানান, আসামি শেকুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles