13.4 C
Toronto
রবিবার, জুন ১৬, ২০২৪

প্রযোজকের যৌন ইঙ্গিত, শো ছাড়লেন অভিনেত্রী

প্রযোজকের যৌন ইঙ্গিত, শো ছাড়লেন অভিনেত্রী
জেনিফার মিস্ত্রি বনসিওয়াল ও প্রযোজক অসিত মোদি

আবারও বিতর্কের মুখে পড়েছে ভারতের হিন্দি টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় এবং পুরনো শো ‘তারাক মেহতা কা উল্টা চশমা’। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দর্শকদের বিনোদন জুগিয়ে আসছে এই সিটকম। কিন্তু বিতর্ক যেন বেড়েই চলেছে ‘তারক মেহতা’ পরিবারকে ঘিরে। এবার শোটির প্রযোজক অসিত কুমার মোদি ফের জড়ালেন আইনি ঝামেলায়। টাকা না দেওয়ার অভিযোগ এনে অসিতের বিরুদ্ধে আগেই পুলিশে মামলা করেছিলেন ‘প্রাক্তন তারাক মেহতা’ তারকা শৈলেশ লোধা। এবার প্রযোজকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনলেন ধারাবাহিকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

ভারতীয় গণমাধ্যম ই-টাইমসকে দেওয়া বিস্ফোরক এক সাক্ষাৎকারে প্রযোজকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনলেন শোটির ‘মিসেস রোশন সোধি’। এই ভূমিকায় ১৫ বছর ধরে অভিনয় করে আসছিলেন জেনিফার মিস্ত্রি বনসিওয়াল। অভিনেত্রী জানান, গত ৬ মার্চ সর্বশেষ তারাক মেহতার শুটিং করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি শো ছেড়ে দিয়েছি। চলতি বছর ৬ মার্চ আমি শেষবার শুটিং করি। আমি বাধ্য হই সেট ছেড়ে বেরিয়ে আসতে। সোহেল রমানি (প্রজেক্ট হেড, তারাক মেহতা) এবং এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার যতীন বজাজের হাতে চরম অপমানিত হয়েছি। আমাকে অপদস্থ করা হয়েছিল।’

- Advertisement -

অভিনেত্রী অভিযোগ করে জানান, ‘তারাক মেহতা কা উল্টা চশমা’র সেট পুরোপুরিভাবে পুরুষ শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী লোকজনে ভরপুর। জেনিফার বলেন, “শেষদিন আমি যেদিন শুট করি, ওটা ছিল হোলির আগের দিন এবং আমার বিবাহবার্ষিকী। অনেক আগে থেকে আমি অর্ধেক দিনের ছুটি চেয়ে রেখেছিলাম। এটাও বলেছিলাম, অন্তত দুই ঘণ্টার জন্য আমাকে ব্রেক দিতে। সব পুরুষ অভিনেতাকে মর্জিমতো ছুটি দেওয়া হলো; কিন্তু আমার অনুরোধ সত্ত্বেও আমাকে ছাড়ল না। আমি প্রতিবাদ জানাতেই সোহেল আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, চারবার চিৎকার করে বলে ‘বেরিয়ে যাও’। এরপর যতীন আমার গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করে, সব সিসিটিভিতে রেকর্ড হয়েছে। এর পরই শো ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই। পরে নির্মাতাদের থেকে নোটিশ হাতে পাই। আমি শুটিং আচমকা ছাড়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।”

অভিনেত্রী স্পষ্ট বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তার শিকার আমি, তাই কাজ করব না।’ জেনিফারের অভিযোগ, অতীতে বহুবার তাকে যৌন ইঙ্গিত করেছেন প্রযোজক অসিত মোদি। তবে কাজ হারানোর ভয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন তিনি। তবে আর নয়। জেনিফার বলেন, ‘এনাফ ইজ এনাফ। আর এই নোংরামো নেওয়া যাচ্ছে না। শেষমেশ আমি আইনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিই। গত ৮ এপ্রিল আমি অসিত মোদি, সোহেল রমানি এবং যতীন বজাজকে নোটিশ পাঠাই।’

যদিও নির্মাতারা এই অভিযোগ স্পষ্ট উড়িয়ে দিয়েছেন। সোহেল রমানি বলেন, ‘আমরা জেনিফারের চুক্তি বাতিল করেছি। তিন মাস ধরে কাজ খুঁজে না পেয়ে মনগড়া কাহিনি ফাঁদছে। ওর অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন, আসলে ও হঠাৎ করেই মরিয়া হয়ে উঠেছে।’

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles