26.4 C
Toronto
মঙ্গলবার, মে ২১, ২০২৪

৫০ উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে আরও দেড় বছর

৫০ উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে আরও দেড় বছর

বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের ১৯ জেলার ৫০ উপজেলাকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও দেড় বছর। এই দুই বিভাগের ৫০টি উপজেলাকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আওতায় আনতে ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধন) বাস্তবায়নের মেয়াদ আরও দেড় বছর বাড়ানোর প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে সরকার। ফলে ২০১৮ সালের জুলাইতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। দেড় বছর বাড়িয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নতুন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

- Advertisement -

কমিশন সূত্র জানায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর অঞ্চলের মানুষের ক্রমবর্ধমান আবাসিক ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা এবং বরিশাল অঞ্চলে নির্মীয়মাণ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দেশের বৃহত্তম কৃষি উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজশাহী এলাকার কৃষি কাজের সুবিধার্থে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয় ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প’। প্রকল্পের আওতায় মূলত চারটি কার্যক্রম গ্রহণ করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই চারটি কার্যক্রম হচ্ছে— ক. বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, খ. রিকন্ডাক্টরিং, গ. নতুন গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ/বিদ্যমান উপকেন্দ্রের ক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ এবং ঘ. বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্রে নতুন বে-সম্প্রসারণ।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ৩ হাজার ২৭৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে বিদ্যুৎ বিভাগের নেওয়া ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের টার্গেট নির্ধারণ করা হয় ২০২৩ সালের ৩০ জুন। কিন্তু প্রকল্পের কর্মপরিধি বাড়ানো, প্রকল্প এলাকা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন অঙ্গের ব্যয় বাড়ানোর কারণেই মূলত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ নির্ধারিত সময়ে করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি বলে জানিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিমিটেড। প্রথম সংশোধনীসহ প্রকল্পটি গত ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ এক বছর ৬ মাস এবং ব্যয় বাড়িয়ে চার হাজার ৩২২ কোটি ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ২ হাজার ৮২৪ কোটি প্রকল্প সহায়তা বাবদ ঋণ হিসেবে দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে এক হাজার ২৭ কোটি ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে ৪৭১ কোটি ৩০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের ১৯টি জেলার ৫০টি উপজেলা ঘিরে বাস্তবায়িত হবে ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধন)’। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর অঞ্চলের মানুষের ক্রমবর্ধমান আবাসিক ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা, বরিশাল অঞ্চলে নির্মীয়মাণ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃষি উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজশাহী এলাকার কৃষি কাজের সুবিধার্থে নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই ছিল প্রকল্পটি গ্রহণের মূল উদ্দেশ্যে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। নতুন গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ/বিদ্যমান উপকেন্দ্রের ক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্রে নতুন বে-সম্প্রসারণ করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপিতে প্রকল্পটির অনুকূলে জিওবি খাতে মোট ১৮৫ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য খাতে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

কমিশন সূত্র আরও জানিয়েছে, সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় মোট ৩৩৫৮ সার্কিট কিলোমিটার বিদ্যমান বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন এবং হাই ভোল্টেজ নতুন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিদ্যমান উপকেন্দ্রগুলোর প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন অপরিহার্য। বিবেচ্য প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০৮ দশমিক ৬৯৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ৩২৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার রিকন্ডাক্টরিং, ৪টি নতুন জিআইএস উপকেন্দ্র নির্মাণ, ১টি বিদ্যমান উপকেন্দ্রের ক্ষমতা বাড়ানো এবং ৬টি বে সম্প্রসারণের সংস্থান রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

একনেকের অনুমোদনের প্রত্যাশায় পরিকল্পনা কমিশনের মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভারত (আদানি) থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ দেশের উত্তর অঞ্চল হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র-সহ দক্ষিণ অঞ্চলে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওয়ার ইভাক্যুয়েশনের জন্য এই প্রকল্পের আওতাধীন সঞ্চালন লাইনগুলো ব্যবহার করা যাবে।

এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে এবং ওই এলাকাগুলোর ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে প্রতীয়মান হয়। এমতাবস্থায় বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিমিটেড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ২০১৮ সালে নেওয়া ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধন)’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নে একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলো।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভারত (আদানি) থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ দেশের উত্তর অঞ্চল হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়াও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর অঞ্চলের মানুষের ক্রমবর্ধমান আবাসিক ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা, বরিশাল অঞ্চলে নির্মিয়মান অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃষি উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজশাহী এলাকার কৃষি কাজের সুবিধার্থে নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles