6 C
Toronto
বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৩

জাবিতে বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে দুইজনকে পেটালেন ছাত্রলীগ নেতা

জাবিতে বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে দুইজনকে পেটালেন ছাত্রলীগ নেতা
ছবি সংগৃহীত

বান্ধবীকে ‘অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতা ওই বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে দুইজনকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মারধরের শিকার আওলাদ মিয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের (স্নাতকোত্তর) শিক্ষার্থী এবং মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র। আওলাদ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক। মারধরের শিকার আরেকজন হলেন মীর মশাররফ হোসেন হলের শিক্ষার্থী মো. নাঈম।

- Advertisement -

অভিযুক্ত সবুজ রায় রসায়ন বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের স্নাতকোত্তরের একজন ছাত্রীর (জিনিয়া আফরিন) সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের শিক্ষার্থী মো. নাঈমের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় নাঈম তাকে উদ্দেশ্য করে ‘অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি’ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন ওই ছাত্রী। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই ছাত্রী এবং তার বন্ধু সবুজ রায় মিলে নাঈমের শার্টের কলার ধরে টেনে নিয়ে যান এবং মারধর করেন। এ সময় নাঈমকে ছাড়িয়ে নিতে গেলে আওলাদ মিয়াকে মারধর করেন সবুজ রায়। ওই ছাত্রী আওলাদের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন। পরে আওলাদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মারধর করার পর সবুজ রায় এবং তার বান্ধবী সেখানে থেকে চলে যান। পরে মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা সেখানে যান। তারা দর্শন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন।

আওলাদ মিয়া বলেন, ‘আমরা গেইট নিয়ে প্রবেশের সময় আমার বন্ধু নাঈমকে একজন কলার ধরে দাঁড় মারধর করতে উদ্যত হন। এ সময় আমি পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে তারা আমার উপরও চড়াও হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে সবুজ পাশে থাকা দোকানের চেয়ার দিয়ে আমাকে মারতে শুরু করে। সেই সাথে সুবজের গার্লফ্রেন্ড জিনিয়া পাশে পড়ে থাকা ইট দিয়ে মারতে শুরু করে। মারতে মারতে আমাকে সেন্ট্রাল ফিল্ডে নিয়ে যায়। তারপরও জিনিয়া আমাকে ছাড়ে না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সবুজ রায় বলেন, ‘আমাদের কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো, তখন কথা কাটাকাটি হয়েছে কিন্তু মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

ঘটনাটি সমাধান করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘ওই ঘটনায় একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে উভয়পক্ষ বসে সমাধান করে নিয়েছে বলে শুনেছি। এরপরেও কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল টিম উপস্থিত হয়েছিলো। আমরা ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছি। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles