20.9 C
Toronto
বুধবার, জুন ১২, ২০২৪

ভুটানে চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণে প্রতি বর্গমিটারে ৮১ হাজার টাকা ব্যয় প্রস্তাব

ভুটানে চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণে প্রতি বর্গমিটারে ৮১ হাজার টাকা ব্যয় প্রস্তাব

ভুটানের চ্যান্সারি কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে এক বর্গফুটের খরচ ধরা হয়েছে ৮১ হাজার টাকা। যা অত্যধিক বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। এছাড়া পরামর্শক খাতে ৪৭ লাখ টাকা বেশি চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন দেওয়া হলে এ খাতে ব্যয় দাঁড়াবে ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। এদিকে সরকারের কৃচ্ছ সাধনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সম্মানি ব্যয়ও বাড়িয়ে ধরা হয়েছে। ‘ভুটানের থিম্পুতে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স এবং রাষ্ট্রদূতের বাসভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গতি নেই। সাড়ে চার বছরে বাস্তব অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে

- Advertisement -

পরিকল্পনা কমিশনে। এ প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৪৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এখান থেকে ২১ কোটি ১১ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ৭০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার এ প্রস্তাবটি নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। সেখানে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক ব্যয়ের বিষয়ে ব্যাখ্যাসহ প্রশ্নের মুখে পড়তে যাচ্ছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

আরও পড়ুন :: ফরিদপুরে ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক বিবাহিত, আছে সন্তানও!

জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সোমবার বলেন, বিষয়টি এখনো আমি জানি না। তবে এক্ষেত্রে কেন এত দেরি হয়েছে কিংবা কেন এত বেশি বেশি ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সদস্যের (সচিব) উচিত ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা। ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) ভেতরে অনেক কিছুই লুকানো থাকে। এর গভীরে ঢুকে দেখতে হবে বিষয়গুলো কী। আমি প্রয়োজনে ভুটানে লোক পাঠিয়ে হলেও প্রকল্পটির এ অবস্থার প্রকৃত কারণ খুঁজে দেখব।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। কিন্তু প্রকল্পের প্রস্তাবিত নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দরপত্র প্রকাশ করা হলেও কোনো কোম্পানি সাড়া দেয়নি। এ অবস্থায় দুদফায় দরপত্র দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়। পরে দরপত্র দাখিল করা তিনটি কোম্পানির মধ্য থেকে মূল্যায়ন কমিটি দুটিকে উপযুক্ত বলে বিবেচনা করে। কিন্তু তারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩৪ দশমিক ১ এবং ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি দর দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যায়ন কমিটি ফের দরপত্র আহ্বানের সুপারিশ দেয়। এ অবস্থায় বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ব্যয় পুনঃপ্রাক্কলন করায় প্রকল্পটির সংশোধন করতে হচ্ছে। শুরু থেকে সাড়ে ৪ বছরে প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

পিইসি সভার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পরিকল্পনা কমিশন বলছে, ভবনগুলো নির্মাণে প্রতি বর্গমিটারে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮১ হাজার টাকা। দেশের অভ্যন্তরে এ ধরনের ভবন করতে ব্যয় হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো। তাই প্রস্তাবিত ব্যয় অত্যধিক বলে প্রতীয়মান হয়। তবে ভবন নির্মাণের জন্য ভুটান সরকারের প্রণীত পরিবর্তিত রেটশিডিউলের সংশ্লিষ্ট অংশ আরডিপিপিতে (সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব) যুক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে আবাসিক ভবন নির্মাণের ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তিসহ বিস্তারিত ব্যয় বিভাজন সংযুক্ত করা যেতে পারে। এছাড়া পূর্ত কাজের মধ্যে মূলধন অংশে চ্যান্সারি কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ বাবদ ধরা হয়েছিল ২৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এখন সংশোধনী প্রস্তাবে ৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৪ কোটি ১ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে ইলেকট্রিক সরঞ্জাম বাবদ ৪ কোটি টাকার স্থলে ১৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এ খাতগুলোর অধিক ব্যয় প্রস্তাবের যৌক্তিকতা এবং বিস্তারিত ব্যয় বিভাজন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে পিইসি সভায়।

জানা গেছে, কৃচ্ছ সাধনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৩ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপনে সম্মানি খাতে অর্থ ব্যয় বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এ প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবে পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি), পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) এবং টিইসির (কারিগরি কমিটি) জন্য সম্মানি খাতে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন মেনে এ খাতে অর্থ ব্যয় ধরার কোনো সুযোগ নেই। তাই এ খাতটি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে পিইসি সভায়। আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবে বেশ কিছু অংশের ব্যয় কমানোর কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু যেসব অংশের ব্যয় কমানো হবে সেগুলোর কর্মপরিধি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে কিনা তা জানতে চাওয়া হবে। বাস্তবায়নের অগ্রগতি কতটুকু এবং কী প্রেক্ষাপটে ব্যয় কমানো হচ্ছে তার বিস্তারিত বলতে হবে সভায়।

সূত্র : যুগান্তর

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles