10 C
Toronto
শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাঁশের খুঁটিতে ১১ হাজার ভোল্টের লাইন

- Advertisement -

তিতাস নদের চারপাশে পানি থইথই করছে। সেখানে দিনরাতে চলছে শত শত নৌকা। মাথার ওপর দিয়ে গেছে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন। বিদ্যুতের তার ঝুলছে বাঁশের খুঁটির ওপর। নৌকার ধাক্কা, পানির স্রোত কিংবা ঝড়-বৃষ্টিতে খুঁটি পড়ে গেলেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের তিতাস নদের পাড়ে এভাবেই বাঁশের খুঁটিতে ঝুলছে বিদ্যুতের তার। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব খুঁটি প্রতিস্থাপনের দাবি জানিয়ে এলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

গত শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পাকশিমুল এলাকায় মেঘালয় মাঠসংলগ্ন তিতাস নদের উত্তর পাড়ে শুধু বাঁশ দিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের এসটি লাইনের তার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই তারের ভারে খুঁটির বাঁশগুলো হেলে পড়েছে। নড়বড়ে বাঁশের খুঁটির পাশ দিয়ে যাচ্ছে নৌকা। মনে হচ্ছিল, নৌকার সঙ্গে ধাক্কা লেগে এখনই খুঁটিগুলো পড়ে যাবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অরুয়াইল সাব-জোনাল অফিসের সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘গত বর্ষার শুরুতেই তিতাস নদীর পাড়ের বিদ্যুৎ-সংযোগের বেশ কয়েকটি খুঁটি ভেঙে যায়।

সেখানে বাঁশের টাওয়ার দিয়ে লাইন টানা হয়েছে। বর্ষার পানির কারণে এমন বাঁশের টাওয়ার বসানো হয়। বর্ষার পানি কমে গেলে বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হবে।’

অরুয়াইল স্টিলবডি নৌ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেহান উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ওইখান দিয়ে নৌকায় করে বিভিন্ন ধরনের মালামাল আনা-নেওয়া করি। নৌকার সঙ্গে ধাক্কা লাগলেই ভেঙে যেতে পারে বাঁশের এই খুঁটি। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।’

বর্ষায় মানুষ পারাপার করেন নৌকার মাঝি বাচির মিয়া। তিনি বলেন, বিদ্যুতের খুঁটিগুলো স্রোতের পানিতে পড়ে গেলে অনেক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

মেঘালয় (নদীর ধার) এলাকার মিলন মিয়া বলেন, ‘আমরা নৌকায় করে নদীতে মাছ ধরি। এই খুঁটিগুলোর কাছে গেলেই বুক কাঁপতে থাকে। খুঁটির নিচ দিয়ে গেলে মনে হয়, এই বুঝি খুঁটিগুলো তারসহ মাথায় পড়ে যাচ্ছে।’

পাকশিমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাউছার হোসেন বলেন, ‘এভাবে বাঁশ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি বানানো ঝুঁকিপূর্ণ। আপনার কাছ থেকে জেনেছি। পল্লী বিদ্যুৎ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিগগিরই কথা বলব।’

জানতে চাইলে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল সাব-জোনাল অফিসের দায়িত্বে থাকা এজিএম জহিরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘বাঁশের খুঁটি না বসালে ওই এলাকার গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ পেত না। এ জন্য পানির মধ্যে বাঁশের অস্থায়ী টাওয়ার নির্মাণ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রেখেছি। যদিও বিধানে নাই। ওখানে এখনো পানি থাকায় বিদ্যুতের খুঁটি বসানো যাচ্ছে না। ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি কমে গেলেই স্থায়ী খুঁটি বসানো হবে।’

সূত্র : আজকের পত্রিকা

Related Articles

Latest Articles