22.7 C
Toronto
বুধবার, আগস্ট ১৭, ২০২২

মেয়ের লাশ নিয়ে ১৮ কিলোমিটার পাড়ি দিলেন বাবা!

- Advertisement -
হোসনেয়ারা খাতুন। পুরোনো ছবি

নিহত মেয়ের লাশ নিজের ভ্যানে করে ১৮ কিলোমিটার দূরের থানায় পৌঁছে দিয়েছেন এক বাবা। গতকাল সোমবার রাতে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই গৃহবধূর নাম হোসনেয়ারা খাতুন (১৬)। সাত মাস আগে পাশের বীরকুৎসা গ্রামের রানা ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশের একটি গাড়িতে করে নিহত গৃহবধূর মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়। পরে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে জামাতা, মেয়ের শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে নিহতের বাবা আব্দুল মালেক বাগমারা থানায় একটি আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। গতকাল সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন পারিবারিক অশান্তির কারণে হোসনেয়ারা গলায় ফাঁস দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে বলে রানা ইসলামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। অন্যদিকে গৃহবধূর বাবা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যার পর এলাকায় আত্মহত্যার খবর প্রচার করা হয়েছে। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে সময় লেগে যায় পুলিশের।

পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠাতে লাশ থানায় নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তখন নিজে ভ্যান চালিয়ে মেয়ের লাশ রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানায় পৌঁছে দেন বাবা আবদুল মালেক। আজ সকালে জেলা পুলিশের লাশবহনকারী গাড়িতে লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। দুপুরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত গৃহবধূর বাবা আবদুল মালেক অভিযোগ বলেন, ‘ঈদের আগে মেয়ের জামাই একটি স্মার্টফোন কিনে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু সেটি দিতে না পারায় মেয়ের জামাই ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেয়েকে নানাভাবে অত্যাচার করতো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে আত্মহত্যার খবর প্রচার করা হয়। মেয়ের লাশ ঘরের বারান্দায় ফেলে মেয়ের জামাইসহ তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকতর্কা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘গৃহবধূ নিহতের ঘটনায় উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আবার গৃহবধূর স্বামীর বাড়ির লোকজন বলছে, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আপাতত গৃহবধূ নিহতের ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ওই গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করা হয়েছে।’

পুলিশের নির্দেশে মেয়ের লাশ বাবা নিজে তার ভ্যানে করে থানায় পৌঁছে দেওয়া কতটুকু মানবিক এই বিষয়ে জানতে চাইলে চাইলে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে এখনো জানি না। ঘটনার সত্যতা কতটুকু সেটি আগে জানতে হবে।’ ঘটনার সত্যতা পেলে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আগে জানি তারপর বলতে পারবো।’

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles