4.9 C
Toronto
মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৬, ২০২১

কানাডার সশস্ত্র বাহিনী আস্থার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে : এরিন ও’টুল

বিরোধী দলীয় নেতা এরিন ও’টুল

কানাডার সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকারী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। সাবেক দুই চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল জোনাথন ভেন্স ও এডমিরাল আর্ট ম্যাকডোনাল্ডের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগের জোড়া তদন্ত চলছে। ঘটনার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে লে. জেনারেল ফ্রান্সেস অ্যালেন নামে এই প্রথম এক নারীকে নিয়োগ দিয়েছেন। এ পদে থাকা সাবেক শীর্ষ সৈন্য জেনারেল জনাথন ভন্সের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ কানাডার সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর তাকে সরিয়ে এই নারীকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এখন ওই শীর্ষ সৈন্যের বিরুদ্ধে ওঠা সামরিক পুলিশের অসঙ্গত আচরণ এবং অধস্তনদের সাথে সম্পর্কের বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। তবে জনাথন ভন্স তার বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। এসব অভিযোগ প্রকাশ হওয়ার আগেই ভন্স গত জানুয়ারিতে অবসর গ্রহণ করেন। ভন্সের অবসরের কয়েক সপ্তাহ পর তার উত্তরাধিকারী অ্যাডমিরাল আর্ট ম্যাকডোলান্ডও তার বিরুদ্ধে ওঠা পৃথক অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত শুরু হওয়ার পর সরে দাঁড়ান।

এদিকে, সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন অসদাচরণের অভিযোগের সঠিক সুরাহা না করার মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী ও লিবারেল সরকার নারীদের হতাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা এরিন ও’টুল। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সাবেক মন্ত্রী ও’টুল বলেন, কানাডার সশস্ত্র বাহিনী আস্থার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কারণ, সাবেক দুই চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল জোনাথন ভেন্স ও এডমিরাল আর্ট ম্যাকডোনাল্ডের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগের জোড়া তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হারজিৎ সজ্জনের পদত্যাগ অবশ্য দাবি করেননি এরিন ও’টুল। তবে কিছুটা হলেও প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এরিন ও’টুল বলেন, মন্ত্রীর কাজের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকেই দায়বদ্ধ করব। দেশের সেবা করা একজন নারীর কাছ থেকে অভিযোগ শোনার পরও বসে থাকা সমীচীন কিনা কানাডিয়ানদের ও নারীদের তা বলতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে।

ভেন্সের যৌন অসদাচরণের বিষয়ে হাউজ অব কমন্সের ডিফেন্স কমিটিতে সাবেক সামরিক ন্যায়পালের সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকে সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন হারজিৎ সজ্জন। ২০১৮ সালে ভেন্সের বিরুদ্ধে অধস্তন এক নারীর যৌন অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়টি সজ্জনের সামনে তুলেছিলেন সাবেক ন্যায়পাল। তবে সজ্জন অভিযোগের প্রমাণ শুনতে অস্বীকৃতি জানান এবং তদন্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে চাননি। যদিও সে আনুষ্ঠানিক তদন্ত তখনও শুরু হয়নি।

তবে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হারজিৎ সজ্জন উভয়েরই দাবি, ২ ফেব্রুয়ারি গ্লোবাল নিউজ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত বিষয়টিতে অবগত ছিলেন না তারা। এরপর জাস্টিন ট্রুডো স্বীকার করেন য়ে, অভিযোগের বিষয়টি ২০১৮ সালেই অবগত হয়েছিল তার কার্যালয়। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানত না।

- Advertisement - Visit the MDN site

Related Articles

- Advertisement - Visit the MDN site

Latest Articles