15.6 C
Toronto
শনিবার, মে ২৮, ২০২২

পি কে হালদার ৩ দিনের রিমান্ডে

- Advertisement -

পি কে হালদার ৩ দিনের রিমান্ডে - The Bengali Times

হাজার কোটি টাকা আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে বছর কয়েক ধরে পালিয়ে থাকা পি কে হালদার নামে পরিচিত প্রশান্ত কুমার হালদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

- Advertisement -

দুদিনের অভিযানে শনিবার (১৪ মে) প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার ধরা পড়েন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) ফাঁদে। এ সময় পি কে হালদারের স্ত্রী ও ভাই প্রাণেশ হালদারসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার (১৫ মে) বারাসাতের আদালতে তোলা হলে তদন্তের স্বার্থে তাদের ১৭ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

কলকাতা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগরে সুকুমার মৃধার বিশাল বিলাসবহুল বাড়ির সন্ধান পায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা। সুকুমার মৃধা পি কে হালদারের অর্থ দেখভাল করতেন। স্থানীয়রা মৃধাকে মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে জানতেন। পি কে হালদার ছিলেন সুকুমার মৃধার প্রতিবেশী। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, এ দুজনের যোগসাজশেই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অশোকনগরে একাধিক সম্পত্তির মালিক হয়েছেন হালদার-মৃধা জুটি। এর মধ্যে শুক্রবার (১৩ মে) তিনটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। যার একটিতে এতদিন একাই থাকতেন সুকুমার মৃধার জামাতা বাংলাদেশি নাগরিক সঞ্জীব হালদার। পি কের ভাই প্রীতিশ হালদারও থাকতেন সুকুমার মৃধার বাড়িতে। স্থানীয়দের কাছে তিনি প্রাণেশ হালদার নামে পরিচিত ছিলেন।

পি কে হালদারের আরেক সহযোগী স্বপন মিত্রের বাড়িতেও অভিযান চালায় গোয়েন্দা সংস্থা। তল্লাশি চালিয়ে একাধিক নথি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা। পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকেও আটক করা হয়।

গোয়ন্দা সংস্থাটি বলছে, শুধু অশোকনগর নয়, কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন এলাকা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অভিজাত এলাকায় পি কে হালদার চক্রের একাধিক বাড়ি ও অফিসের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানেও তল্লাশি চালিয়েছে ইডি।

পি কে হালদার কীভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন, সেই রহস্যের জট এখনো খোলেনি।

২০১৯ সালের ২২ অক্টেবর রাত পর্যন্ত দেশেই ছিলেন প্রশান্ত কুমার হালদার। ২৩ অক্টোবর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চিঠি দেয় ইমিগ্রেশনকে। দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপে আবারও তার বিদেশে যাওয়া ঠেকাতে বলে দুদক।

দুদক এবং ইমিগ্রেশন বিভাগ যখন চিঠি চালাচালি করছে তখনো সীমান্ত পাড়ি দেননি পি কে হালদার। আদালতে জমা দেওয়া ইমিগ্রেশন পুলিশের তথ্য বলছে, দুদকের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে যশোরের বেলাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়েন পি কে হালদার।

বিষয়টি শুধুই কাকতালীয় ছিল, নাকি প্রশান্ত কুমারকে পালাতে কেউ সহায়তা করেছিলেন–এই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। যদিও ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং দুদক একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে আসছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, দেশ ত্যাগের পর পি কে হালদারের অবস্থান নিয়ে একেক সংস্থা একেক রকম তথ্য দিয়ে আসছে। কখনো বলা হয়েছে তিনি কানাডায় আছেন, আবার কখনো শোনা গেছে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের কথা। একবার দেশে ফেরার ইচ্ছা পোষণ করলেও নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন গ্রেফতার না করার। সেই আশ্বাস না মেলায় টিকিট কেটেও ফেরেননি প্রশান্ত কুমার।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles