19.8 C
Toronto
শনিবার, মে ২৮, ২০২২

ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রিতে কোটিপতি ভিসি!

- Advertisement -

ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রিতে কোটিপতি ভিসি! - The Bengali Times

ষাটোর্র্ধ্ব নুরুল হক সরকার ওরফে শেখ গনি সরকার। তার দুই ছেলে নূর মোহাম্মদ ও আরেক ছেলে নূর আহমেদ ও মেয়ে নূর আফরোজকে নিয়ে ‘প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলোজি নামে একটি ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছিলেন। সেখান থেকে এমবিবিএস, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ প্রায় ৩০০০ জনকে সনদ দিয়েছেন। গনি সরকারের এই বিশ্ববিদ্যালয় এবং সনদ সবই ভুয়া। এমন অভিনব প্রতারককে তার সহযোগীসহ রাজধানীর মালিবাগ থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার সহযোগীরা হলো, ভুয়া চিকিৎসক মো. সাইদুর রহমান ওরফে নজরুল, মো. মাহফুজুর রহমান ওরফে মাহফুজ, আমান উল্লাহ ও দেবাশীষ কুণ্ডু।

- Advertisement -

এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুয়া সনদপত্র, টেস্টিমোনিয়াল, ট্রান্সক্রিপ্ট, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, এডমিট কার্ড, নকল সিল, ৪টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, ভুয়া সনদ প্রদানের চটকদার বিজ্ঞাপনের পেপার কাটিং ও লিফলেট, প্রেসক্রিপশন, ভিজিটিং কার্ড, নবদিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ডক্টর্স চেম্বারের প্যাডের এক কপি, ১টি সিপিইউ, একটি মনিটর, একটি কী-বোর্ড ও একটি প্রিন্টার জব্দ করা হয়। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার জানান, বুধবার রাজধানীর মালিবাগের প্যারামাউন্ট টাওয়ারে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত প্রতারক চক্রটি বিগত প্রায় দুই দশক ধরে ‘প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলোজি’- নামক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সার্টিফিকেট বিক্রয়ের ব্যবসা করতো। প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা ভুয়া ওয়েবসাইটে এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিতো। বিজ্ঞাপনে কম্পিউটারাইজড ক্যাম্পাসের কথা উল্লেখ থাকতো, যা বাস্তবে অস্তিত্বহীন। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুয়া আদেশ ও একটি হাইকোর্টের জাল রিট প্রদর্শন করতো।

তিনি জানান, তাদের রোগী দেখার চেম্বার ছিল অত্যাধুনিক উপায়ে সজ্জিত। নামফলক ছিল নানান গুরুত্বপূর্ণ ডিগ্রি সংবলিত। MBBS, BDS, MPhil, PHD, Engineering, Advocateship এই ধরনের ১৪৪টি বিষয়ের উপরে অসংখ্য সার্টিফিকেট প্রদান করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তিনি বলেন, বাস্তবে Premier university of technology এর কোনো অস্তিত্ব নাই। একইভাবে ডা. মো. নুরুল হক সরকার নিজেকে Pitch Blende university of Science and technology (PUST) Ges Peace Land university নামক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতো। গ্রেপ্তার সাইদুর রহমান ওরফে নজরুল, দেবাশীষ কুণ্ডুু, আমান উল্লাহ, মাহফুজুর রহমান ওরফে মাহফুজসহ অসংখ্য ব্যক্তিকে ভুয়া ডাক্তারি সনদপত্রসহ অন্যান্য বহু বিষয়ে ভুয়া সনদপত্র প্রদান করেছে। ভুয়া ডাক্তার এমএন হক তার পরিবারের সদস্যসহ অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় ভুয়া সনদপত্র প্রদানের একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলে।

তিনি আরও জানান, যে চক্রটি কোনো রকম পরীক্ষা, ক্লাস ও বৈধ অনুমোদন ছাড়াই টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন বিষয়ে ভুয়া ও জাল সার্টিফিকেট বিক্রয় করেছে। ভুয়া ডাক্তারি সনদ নিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এ ঘটনায় রমনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উল্লেখ করে অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা কোন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হচ্ছেন সেগুলো ইউজিসি’র ওয়েবসাইটে গেলেই খোঁজ নিতে পারবেন। সেই ইউনিভার্সিটি অনুমোদনপ্রাপ্ত কিনা এবং তাদের নামে কোনো অভিযোগ রয়েছে কিনা তাও জানা যাবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, গ্রেপ্তারাদের মধ্যে দু’জন আছেন চাকরিজীবী। সাভারে একজনের চেম্বার রয়েছে এবং ডায়াগনস্টিক চেম্বার রয়েছে। অন্য আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নুরুল এক অভিনব প্রতারক। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সব প্রশ্নের উত্তর গোপন করছেন। তাকে রিমান্ডে আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ডিবি ডিসি ওয়ারী মো মো আশরাফ হোসেন, ডিএমপি’র ডিসি (মিডিয়া) ফারুক হোসেন, এডিসি মো. তরিকুল ইসলাম ও এডিসি আবু আশরাফ সিদ্দিকী।

সূত্র : মানবজমিন

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles