16.8 C
Toronto
মঙ্গলবার, মে ২৪, ২০২২

রপ্তানিতে যুদ্ধের প্রভাব, দুশ্চিন্তায় পোশাকশিল্প মালিকরা

- Advertisement -

রপ্তানিতে যুদ্ধের প্রভাব, দুশ্চিন্তায় পোশাকশিল্প মালিকরা - The Bengali Times

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে। রাশিয়ায় পাঠানোর জন্য বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ স্থগিত হয়েছে। ফলে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের কপালে। রাশিয়ার বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ওপর সুইফটের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় আর্থিক লেনদেনেও বাধা তৈরি হয়েছে।

- Advertisement -

জানা গেছে, রাশিয়ায় নিজেদের পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বখ্যাত পোশাকের খুচরা বিক্রেতা ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম। শুধু তাই নয়, রাশিয়ায় পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে চলমান ক্রয়াদেশ স্থগিত করেছে ব্র্যান্ডটির এ দেশীয় কার্যালয়।

সামরিক জোট ন্যাটোতে ইউক্রেনের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়টি নিয়ে দেশটিতে সেনা অভিযান শুরু করে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই অভিযান ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলো একজোট হয়ে রাশিয়ার ওপর নানামুখী নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে। একদিকে যেমন ঋণপত্র খুলতে সমস্যা হচ্ছে, অপরদিকে রাশিয়ার বাজারে পোশাকের চাহিদায় ধস নেমেছে। এছাড়া ‘সুইফট লেনদেন’ ব্যবস্থা থেকে রাশিয়ার ব্যাংকগুলোকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা পণ্য রপ্তানি করেও সময়মতো বিল পাচ্ছেন না।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, রাশিয়ার তৈরি পোশাকের বাজার প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলারের। এই বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য তুলাসহ বেশকিছু কাঁচামাল রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানি করা হয়। ফলে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন।

পোশাকশিল্পের মালিকরা জানিয়েছেন, রাশিয়ায় পোশাক রপ্তানি করে এমন কিছু কারখানা সমস্যায় পড়েছে। যদিও মোট পোশাক রপ্তানির মাত্র দেড় শতাংশ যায় রাশিয়ায়। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ২ হাজার ৩৯৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ায় গেছে ৪২ কোটি ডলারের পোশাক।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমাদের কাছে বিজিএমইএ সদস্য সাতটি প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে রাশিয়ায় পোশাক রপ্তানি করে তাদের মোট ৪০ লাখ ডলার আটকে গেছে।’

সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতে তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের পণ্যের ওপরই কমবেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রাশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ৫৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক, দেশীয় মুদ্রায় যা ৫ হাজার ৭৪ কোটি টাকার সমান। অপরদিকে ইউক্রেনে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ডলার বা ১০০ কোটি টাকার তৈরি পোশাক।

কিন্তু ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ঘটনায় রাশিয়ার বেশকয়েকটি ব্যাংক বৈশ্বিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যম সুইফটের নিষেধাজ্ঞায় পড়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হলে দেশটির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন চালু রাখাই কঠিন হতে পারে।

এদিকে সুইফটের বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে ‘কারেন্সি সোয়াপ’ পদ্ধতিতে লেনদেন নিষ্পত্তির প্রস্তাব বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাশিয়ার যেসব ব্যাংক সুইফটের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে কেবল তাদের সঙ্গে লেনদেন করা যাবে না। তবে সুইফটের বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে ‘কারেন্সি সোয়াপ’ পদ্ধতিতে লেনদেন নিষ্পত্তির একটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার চাইলে এটি কার্যকর করতে পারে।’

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে যদি সমস্যা হয়, সে ক্ষেত্রে আমরা বিকল্প লেনদেন পদ্ধতি খুঁজে বের করবো।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles