26.6 C
Toronto
রবিবার, জুলাই ২১, ২০২৪

খেলতে না চাইলে ফুল ব্রেক নাও, সাকিবকে সুজন

খেলতে না চাইলে ফুল ব্রেক নাও, সাকিবকে সুজন - the Bengali Times
সাকিব ও সুজন পুরোনো ছবি

দিনকয়েক পরেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ। সেখানে তিন ম্যাচের ওয়ানডে এবং দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে টাইগাররা। কিন্তু সেই সফরে যেতে চান না দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। গত রোববার দুবাইতে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাকিব জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্য প্রস্তুত নন।

হুট করে সাকিবের খেলতে না চাওয়ায় অসন্তুষ্ট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। দুজনের পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যেই সাকিব ইস্যুতে ক্ষোভ ঝাড়লেন বিসিবির পরিচালক ও জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন।

- Advertisement -

আজ মঙ্গলবার মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন সরাসরি বলে দিলেন, ‘সাকিব না খেলতে চাইলে খেলবে না। আই ডোন্ট কেয়ার। আমি মনে করি বিসিবিও কনসার্ন না।’

সাকিব বার বার নিজের ইচ্ছেমতো খেলতে চান, আবার হঠাৎ করে বলেন খেলবো না। এটাকে আর চলতে দেওয়া যায় না বলেই মন্তব্য করেছেন সুজন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন সবচেয়ে বড় সময়। বোর্ডের উচিত একটা ফুলস্টপ করা। ইটস অ্যানাফ। এটা বারবার এমন হতে পারে না যে, আমি চাইলাম খেললাম, চাইলাম খেললাম না। এখন শুধু সাকিবের কথা বলছি না, সবাইকে ছাড়াই ভাবার সুযোগ এসেছে।’

সুজন বলেন, ‘ইউ ক্যান নট ডিক্টেট বিসিবি (বিসিবিকে তো তুমি হুকুম করতে পারো না)। যদি খেলতে না চাও, খেলবে না। তোমার ব্রেক নিতে মন চায়, ফুল ব্রেক নাও। কেউ তো তোমাকে আটকাচ্ছে না! আমাদের প্রেসিডেন্টও এটাই বলতে চান। আমি জোরে বললাম, উনি আস্তে বলেছেন। লাস্ট কল অবশ্যই বিসিবির। ওরা বিসিবির প্রোডাক্ট। বিসিবি ওদের প্রোডাক্ট নয়। বিসিবির জন্যই ওরা। ওরা মেইন স্টেকহোল্ডার হতে পারে কিন্তু ওদের পেছনে অনেক ইনভেস্ট করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওপর তো কেউ নয়।’

তামিম ইকবাল সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি থেকে ছয় মাসের ছুটি চেয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, বায়োবাবল যতদিন থাকবে ততদিন টেস্ট খেলবেন না।

খালেদ মাহমুদ সুজন এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘সাকিব-তামিম একটা সিরিজ না খেললে ওই জায়গায় নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে। আবার ওরা ফিরলে ওই ছেলেটার কী হবে? সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রয়োজন অপরিসীম। কিন্তু ওদের ছাড়া দল হবে না এমন নয়। তারা আমাদের ‍গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। কিন্তু তারা না খেললে যে দেশের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে তা নয়। জোর করে তো কাউকে খেলানো যাবে না। তাদের জায়গায় অন্য যারা সুযোগ পাবে তাদের জন্য বড় সুযোগ হবে।’

অন্য এক প্রশ্নে এই প্রসঙ্গে সুজন বলেন, ‘বাংলাদেশ দল কারও জন্য বসে থাকবে না। এটা ভাবা ভুল। আপনারা যেমন ভাবেন, এটা ছাড়তে হবে। হ্যাঁ, তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। দুই-তিন বছর পর ওদের ছাড়াই খেলতে হবে। নতুনরা আসছে। এটাই তো স্বাভাবিক। এটা একটা প্রসেসের মধ্যে যাবে। তবে আমরা চাই সেরা দলে সেরা ক্রিকেটাররা খেলুক। খেলা না খেলা একদম ক্রিকেটারের ওপর ছেড়ে দেওয়া ঠিক না। তবে কথা বলে নেওয়াটা ভালো।’

বিসিবি সভাপতির মতো সুজনও প্রশ্ন তুললেন, আইপিএল খেলার সুযোগ পেলে কী সাকিব এমন করতেন? সুজন বলেন, ‘এখন দেখেন আইপিএলে যদি দল পেত, তাহলে সে খেলতে যেত না? বোর্ড কেন রিকোয়েস্ট করবে তাকে? এখানে বোর্ড হুকুম করবে। কারণ সে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার।’

সাকিবকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য রিকুয়েস্ট করা হয়নি জানিয়ে সুজন বলেন, ‘তাকে রিকোয়েস্ট করা হয়নি। সাকিব যেহেতু আইপিএল খেলতে যাচ্ছে না তখন বলা হয়েছে তুমি কি টেস্ট খেলবে? সে বলেছে ইয়েস। তখন তার নাম দলে দেওয়া হয়েছে। এখন দেখেন আইপিএলে যদি দল পেত, তাহলে খেলতে যেত না? বোর্ড কেন রিকোয়েস্ট করবে? এখানে বোর্ড তাকে হুকুম করবে। কারণ সে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার।’

বাংলাদেশের জার্সি পরে খেলতে নামলে একটা আনন্দ থাকা উচিত বলে মনে করেন সুজন। তিনি বলেন, ‘সাকিব, রিয়াদ, মুশফিক তামিম, মাশরাফি, এখন যেহেতু নেই ওর কথা নাই বললাম। ওরা ছোট থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাইপলাইন ধরে উঠেছে। ওদের পেছনে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পুঁজিটা অনেক। তো আমরা তো ওদের কাছে তার প্রতিদানটা চাইতেই পারি। এটা তো কারও পারসোনাল টিম নয়, এটা বাংলাদেশ দল। এই জার্সি পরে আনন্দটা থাকা উচিত।’

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles