19.9 C
Toronto
শনিবার, জুলাই ১৩, ২০২৪

সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও বিয়ের নামে ব্ল্যাকমেইল করত সবুজ

সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও বিয়ের নামে ব্ল্যাকমেইল করত সবুজ - the Bengali Times

পড়াশোনায় ৮ম শ্রেণির গণ্ডি পার হতে না পারলেও নিজেকে একজন গ্রাজুয়েট হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিতেন সবুজ। নিজেকে সংবাদকর্মী হিসেবেও দাবি করতেন। এসব মিথ্যা পরিচয় দিয়ে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত সে।

- Advertisement -

এছাড়াও সাংবাদিক পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক নারীকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সাজানো কাজী দিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর তাকে ঘুমের ঔষুধ খাইয়ে অচেতন করে তাদের অন্তরঙ্গ মূহুর্তের দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করে। এরপর তাকে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় সে। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মো. তাজবিরুল ইসলাম সবুজ ওরফে শেখ শিমুলকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গতকাল সোমবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আজ দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের সময় ২ টি ভুয়া সাংবাদিকের আইডি কার্ড, ২ টি ভুয়া টিন সার্টিফিকেট, ১১ টি ভুয়া প্রাতিষ্ঠানিক আইডি কার্ড, ৩ প্রকার ভিজিটিং কার্ড, ১ টি স্পাই ক্যামেরা, ৭ টি এটিএম কার্ড, ৬ টি চেক বই, ১ টি পে-অর্ডার, ১ টি বিবাহের হলফনামা, ১ টি ভুয়া জীবন বৃত্তান্ত ফরম, ১ টি সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত বেল্ট, ৪ টি পেনড্রাইভ, ২ টি মেমোরী কার্ড, ৬ টি মোবাইল ফোন এবং ৪১ টি সীম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার সবুজকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব জানায়, তার জন্মস্থান বাগেরহাট জেলায় এবং সে গত ১০ বছর ধরে গাজীপুরে বসবাস করছে। বর্তমানে গাজীপুরের সালনা এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে। পড়াশোনায় সে ৮ম শ্রেণির গণ্ডি পার হতে না পারলেও নিজেকে একজন গ্রাজুয়েট হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেয়।

র‍্যাব কর্মকর্তা মোমেন বলেন, চাকরির পাশাপাশি সে আব্দুল্লাহপুরে ‘দৈনিক আজকের আলোকিত সকাল’ নামের একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের সংবাদকর্মী হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। সে সাংবাদিকতার মিথ্যা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত।

এছাড়াও বিবাদমান দুই পক্ষের সাথে সাংবাদিক পরিচয়ে সমস্যা সমাধানের মধ্যস্থতা করার জন্য টাকা দাবি করত। বিভিন্ন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সু-সর্ম্পক রয়েছে দাবী করে আইনী সমস্যা সমাধান করে দিবে বলেও টাকা নিত। পাশাপাশি আইনী জটিলতা আছে এমন কিংবা আদালতে বিচারাধীন জমি উদ্ধারের নাম করে বিবাদমান পক্ষের কাছ থেকে টাকা আদায় করত।

লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন জানান, তার প্রতারণার কাজে ফজল, তোফাজ্জল, মাসুম, আলতাফসহ আরো ২ থেকে ৩ জন তাকে সহযোগিতা করত বলে জানা যায়। ধৃত আসামি শেখ শিমুল নামে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে এবং তার বিভিন্ন ব্যাংকে ৫ টি একাউন্ট রয়েছে বলেও জানা যায়। এছাড়াও ভিন্ন নামে সে ২ টি ফেক সার্টিফিকেট ব্যবহার করে বলে জানা যায়।

গ্রেপ্তার সবুজকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানায়, ২০০৫ সালে তার নিজ এলাকায় ১ম বিয়ে করলে সেই স্ত্রী ১ বছর সংসার করে তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়। পবরর্তীতে ২০১২ সালে ২য় বিয়ে করলে তার ২য় স্ত্রীও ১ বছর সংসার করে তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়। এরপর বাগেরহাট থেকে গাজীপুরে আসে এবং একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে চাকরি নেয়। গামের্ন্টস ফ্যাক্টরীতে চাকরির করায় ২০১৪ সালে একজন গার্মেন্টস কর্মীকে বিয়ে করে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে সে ২০১৮ সালে উত্তরখান মাজার তালতলা এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে চাকরি করার সময় তার ৩য় স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে সেখানে কর্মরত একজন গার্মেন্টস কর্মীর সাথে প্রেমের সর্ম্পক তৈরী করে। পরবর্তীতে সে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় শারীরিক সর্ম্পক করে এবং শারীরিক সর্ম্পকের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে রাখে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ভিকটিম গ্রেপ্তার সবুজকে বিয়ের কথা বললে সে বিভিন্ন অজুহাতে সময় বাড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে সবুজ একজন মৌলভী সাহেবকে বাসায় ডেকে এনে মৌখিকভাবে ভিকটিমকে বিয়ে করে। ভিকটিম বিয়ের কাবিননামা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে সে ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন শুরু করে।

র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, বিষয়টি ভিকটিম তার পরিবারকে অবহিত করে এবং তাদের পরামর্শে গ্রেপ্তার সবুজের সাথে ৩ বছর ধরে ঘর সংসার করে। এক পর্যায়ে ভিকটিম বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারে সবুজ এর আগেও একাধিক বিয়ে করেছে। ভিকটিম আগের বিয়ের বিষয়ে আসামিকে জিজ্ঞাসা করলে সে ভিকটিমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং বিভিন্ন সময় তাদের শারীরিক সর্ম্পকের ধারণকৃত গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

র‍্যাব জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ভিকটিম গ্রেপ্তার সবুজকে ডিভোর্স দেয়। পরবর্তীতে ১ মাস আগে গাজীপুরের সালনা এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে চাকরি করার সময়ে অপর একজন নতুন ভিকটিম একজন গার্মেন্টস কর্মীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং গত ২৬ জানুয়ারি ভুয়া নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সাজানো বিয়ে করে।

তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ৪ টি পেনড্রাইভ ও ২ টি মেমোরী কার্ডে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়। যা সে প্রতারণার কাজে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে বলেও জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles