
সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজাকে ঘিরে ওঠা নারীঘটিত অভিযোগ সম্পর্কে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আগে থেকেই অবগত ছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তাঁর দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন রাশেদ খান।
পোস্টে তিনি লেখেন, আমির হামজার নারীঘটিত বিষয়টি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও জানতেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে দলটির শীর্ষ নেতারা এ নিয়ে আলোচনাও করেছিলেন।
রাশেদ খানের দাবি, বিষয়টি জানার পর ইসলামি বক্তা তারেক মনোয়ার আমির হামজাকে স্মার্টফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তাঁকে বাটনফোন ব্যবহারের কথা বলেছিলেন।
আমির হামজাকে কুষ্টিয়া-৩ আসনে মনোনয়ন দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাশেদ খান। তাঁর অভিযোগ, আসনটিতে যোগ্য প্রার্থী না থাকায় জামায়াতের আমির তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া আরেকটি ফেসবুক পোস্টে আমির হামজার কথিত নারীঘটিত ঘটনার অডিও ও ভিডিও তাঁর হাতে এসেছে বলে দাবি করেন রাশেদ খান। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খানের ভাষ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে তিনি এসব তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন। অডিও ও স্ক্রিন রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করতে তিনি দ্য ডিসেন্ট ও রিউমার স্ক্যানারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। তাঁর দাবি, দ্য ডিসেন্ট আমির হামজার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। পরে অন্য একটি মাধ্যমের সহায়তায় অডিও-ভিডিওর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে রাশেদ খান আশা প্রকাশ করেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জামায়াত কর্তৃপক্ষ আমির হামজাকে দল থেকে বহিষ্কার করবে এবং তাঁকে সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করবে।
তবে রাশেদ খানের এসব অভিযোগের বিষয়ে আমির হামজা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাইও এখনো নিশ্চিত নয়।

