
ব্যঙ্গাত্মক গানের সুরে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। ‘খুনি হাসিনা দেশে আয়, দেখব তোরে কে বাঁচায়’—এমন কথার গান পরিবেশন করে সমাবেশে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেন তিনি। তার গাওয়া গানের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রামে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির সমাবেশে এসব কথা বলেন আম্মার।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে নগরের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি জামালখান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের ও সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা। এ ছাড়া সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং শাপলা, পিলখানা ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে মঞ্চে ওঠেন সালাহউদ্দিন আম্মার। এ সময় ব্যঙ্গাত্মক গানের সুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি গেয়ে ওঠেন, ‘ও হাসিনা, গেছোস কি না ভুইলা আমারে? আমি এহন মিছিল করি টর্চের আলোতে, ও আমি এহন মিছিল করি রাইতের আধারে।’
গানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। একপর্যায়ে শিবিরের মারধর, বিভিন্ন দলের কার্যালয়ের পরিস্থিতি এবং গুলিস্তানে সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে ব্যঙ্গ করেন। গানের আরেক অংশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকেও কটাক্ষ করেন আম্মার।
গানের শেষাংশে শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘খুনি হাসিনা দেশে আয়, দেখব তোরে কে বাঁচায়, দেখব তোরে কে বাঁচায়।’
আম্মারের গান পরিবেশনের সময় মঞ্চের সামনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। পরে তার গাওয়া গান ও বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের এ কর্মসূচিতে বক্তারা তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং অতীতের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

