
কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরের সেন্ট জোসেফ’স হেলথ কেয়ার তাদের মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে ১১৪টি নিবন্ধিত নার্সের পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাসপাতালটির বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে আর্থিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রদেশজুড়ে হাসপাতালগুলো যখন আর্থিক চাপ সামলাতে কর্মী ও সেবার কাঠামোয় পরিবর্তন আনছে, তখন এই সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শুক্রবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বাতিল হতে যাওয়া পদের মধ্যে ৮৩টি পূর্ণকালীন এবং ৩১টি খণ্ডকালীন নিবন্ধিত নার্সের পদ রয়েছে। তবে এসব পদের পরিবর্তে সমসংখ্যক নয়, বরং বিকল্প স্বাস্থ্যকর্মীর বিভিন্ন পদ যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে থাকবেন নিবন্ধিত প্র্যাকটিক্যাল নার্স, পার্সোনাল সাপোর্ট ওয়ার্কার, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, ফিজিওথেরাপি সহকারী, সমাজকর্মী এবং থেরাপিউটিক রিক্রিয়েশন সহকারী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্কউড ইনস্টিটিউটের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মী ও সেবা প্রদানের পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা, আঞ্চলিক বহির্বিভাগীয় সেবা এবং রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া বিভিন্ন সহায়তামূলক কর্মসূচি।
এই পর্যালোচনার ভিত্তিতে সেবা প্রদানের মডেল হালনাগাদ করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, কর্মীদের পদবিন্যাসে পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্য সেবা কমানো নয়; বরং রোগীদের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবা প্রদানের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা। তবে নিবন্ধিত নার্সের পরিবর্তে অন্যান্য পেশার স্বাস্থ্যকর্মীদের যুক্ত করার ফলে রোগীদের সেবায় কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
হাসপাতালটির এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ। গত বছর সেন্ট জোসেফ’স হেলথ কেয়ারের বাজেট ঘাটতি ছিল ৪৭ লাখ ডলার। চলতি বছরেও পরিচালন ঘাটতির আশঙ্কা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এই পরিস্থিতিতে আগামী তিন বছরের মধ্যে বাজেটে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যমান সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জনই তাদের পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য।
অন্টারিওর অন্যান্য হাসপাতালও একই ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ফলে কর্মী পুনর্বিন্যাস, ব্যয় পর্যালোচনা এবং সেবা প্রদানের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্টারিওর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলভিয়া জোন্স বাজেট ঘাটতিতে থাকা হাসপাতালগুলোকে আর্থিক সমস্যা চিহ্নিত করে তিন বছরের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি যেসব পদক্ষেপ তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিলি বার্নস জানিয়েছেন, টানা চতুর্থ বছরের মতো চলতি বছরও প্রদেশের হাসপাতালগুলোর জন্য তহবিল ৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
তবে তহবিল বাড়ানো সত্ত্বেও হাসপাতালগুলোর আর্থিক চাপ পুরোপুরি কাটছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সেন্ট জোসেফ’স হেলথ কেয়ারের সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর সংকটেরই একটি উদাহরণ। এখন মূল বিষয় হলো, আর্থিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগের পাশাপাশি রোগীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মান, প্রাপ্যতা ও ধারাবাহিকতা কতটা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

