
ফুটবল মাঠে একের পর এক কীর্তি গড়ে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। এবার আর্জেন্টাইন মহাতারকার নাম যুক্ত হলো উদ্ভিদজগতেও। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত নতুন এক প্রজাতির উদ্ভিদের নাম রাখা হয়েছে ‘সালভিয়া মেসিই’। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়, উদ্ভিদটির ফুলের রং আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সির মতো আকাশি ও সাদা।
দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর উদ্ভিদবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ফাইটোট্যাক্সা’য় নতুন প্রজাতিটি নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়।
পেরুর মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের আন্দিজ পর্বতমালায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় জন্মায় এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। পাথুরে ও শুষ্ক পাহাড়ি ঢালে বেড়ে ওঠা উদ্ভিদটি প্রায় দেড় মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তবে এর বিস্তৃতি বেশ সীমিত।
মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই উদ্ভিদটির এমন নামকরণ করেছেন গবেষকেরা। আকাশি-সাদা ফুলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সির রঙের মিলও এ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। বৈজ্ঞানিক নামকরণের নিয়ম অনুসারে মেসির নামের সঙ্গে ‘আই’ যুক্ত করে রাখা হয়েছে ‘সালভিয়া মেসিই’ নামটি।
উদ্ভিদটি শনাক্ত ও নামকরণের গবেষণায় যুক্ত ছিলেন পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের গবেষক পাউল গনসালেস, আর্জেন্টিনার গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর জীববিজ্ঞানী জঁ কাপচা-রামোস।
মজার বিষয় হলো, প্রকৃতিপ্রেমীদের অনলাইনে প্রকাশ করা কিছু ছবি থেকেই উদ্ভিদটির সন্ধান পান গবেষকেরা। ছবিগুলো দেখে রোলান্দো উরিয়ার সন্দেহ হয়, এটি পরিচিত কোনো প্রজাতি নয়। পরে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান ও নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন প্রজাতি হিসেবে এর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
তবে মেসির নামে নাম পাওয়া এই উদ্ভিদটি রয়েছে হুমকির মুখে। সীমিত বিস্তৃতির কারণে গবেষকেরা একে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। বনাঞ্চলে আগুন, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তন এর অস্তিত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
উদ্ভিদটি পুদিনা পরিবারের সদস্য। এ পরিবারের অনেক উদ্ভিদের সুগন্ধি ও ঔষধি গুণ থাকলেও ‘সালভিয়া মেসিই’-এর এমন কোনো গুণ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এর আগে বিভিন্ন ক্রীড়াবিদের নামেও নতুন প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে। তবে মেসির নামে এই উদ্ভিদের নামকরণে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। আকাশি-সাদা জার্সিতে মাঠ মাতানো মেসির নাম এবার ফুটবল মাঠের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ল প্রকৃতির জগতে।

