
সালমান খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে চাননি বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। অতীতের সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের অনুভূতির কথা বিবেচনা করেই এ বিষয়ে নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী।
২০১২ সালে ‘রঁদেভু উইথ সিমি গারেওয়াল’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন ঐশ্বরিয়া। সেখানে উপস্থাপক সিমি গারেওয়াল জানতে চান, সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের সেই অধ্যায়কে তিনি এখন নিরপেক্ষভাবে দেখতে পারেন কি না।
জবাবে ঐশ্বরিয়া জানান, বিষয়টি তিনি নিজের জীবন থেকে সরিয়ে রেখেছেন। প্রকাশ্য কোনো মঞ্চে এ নিয়ে আলোচনা করার আগ্রহও তাঁর নেই। নিজের অতীত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ভেতরের দানবদের বিদায় জানিয়েছি। এটি অতীতের বিষয়, সেখানেই একে রেখে দেওয়া উচিত।’
কেন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না, তার ব্যাখ্যাও দেন অভিনেত্রী। তাঁর ভাষ্য, জীবনকে তিনি শুধু নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন না। তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনেরা। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে একটি সীমারেখা বজায় রাখতে চান তিনি।
ঐশ্বরিয়া মনে করেন, কোনো ব্যক্তিগত ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে শুধু তাঁকেই নয়, এর সঙ্গে জড়িত অন্য মানুষদেরও আলোচনার মুখে পড়তে হতে পারে। এ কারণে তাঁকে কূটনৈতিক কিংবা নিজের কথা গোপন রাখা ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও মাথায় রাখেন তিনি।
অভিনেত্রী আরও বলেন, পরিচিত মুখ হলেও তিনি নিজেকে সাধারণ একজন মেয়ে হিসেবেই দেখেন। তাঁর জীবনের সঙ্গে যাঁরা জড়িয়ে আছেন, তাঁরাও সাধারণ মানুষ। তাঁদেরও অনুভূতি, পরিবার ও প্রিয়জন রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
যেভাবে ঘনিষ্ঠতা, পরে বিচ্ছেদ
১৯৯৯ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার সময় সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তবে ২০০২ সালে তাঁদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০০৩ সালে ‘চালতে চালতে’ ছবির শুটিং ঘিরে জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরে ছবিটিতে শাহরুখ খানের বিপরীতে ঐশ্বরিয়ার পরিবর্তে রানি মুখার্জিকে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার সম্পর্কের প্রসঙ্গেও সালমান ও বিবেকের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধের খবর সামনে আসে।
২০০৭ সালের এপ্রিলে অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন ঐশ্বরিয়া। তাঁদের একমাত্র মেয়ে আরাধ্য বচ্চন। বর্তমানে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে অতীতের সম্পর্কের আলোচনা না করে ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখতেই আগ্রহী এই অভিনেত্রী।

