
‘অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, কিন্তু শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন না। দেশে ফেরা তো দূরের কথা, তার কবর বাংলাদেশে দেওয়ার মতো সাহসও আওয়ামী লীগের নেই।’—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মাগুরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রব্বির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে। তার ভাষ্য, দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। এখনো যারা বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের মোকাবিলায় ছাত্রদলই যথেষ্ট বলেও দাবি করেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিদেশি চাপের প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ভারতের কাছে মাথানত করে বিএনপি দেশ পরিচালনা করবে না। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত বাংলাদেশকে চাপ দিচ্ছে—এমন কোনো তথ্য তার জানা নেই।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে অন্যায় করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে শেখ হাসিনা এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের, যারা ভারতে পালিয়ে রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এর আগে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ খুবই কম বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সমালোচনা করেও বক্তব্য দেন রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে পরাজয় নিশ্চিত বুঝে শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ সময় মাগুরা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রব্বির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, সরকার পতনের এক মাসের মাথায় আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করার মাধ্যমে জামায়াত মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংসদে আসন ভাগাভাগিরও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির ভূমিকা নিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, জুলাই আন্দোলনে দলটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাদের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দলটি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পরে রাশেদ খাঁন শহীদ মেহেদী হাসান রব্বির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় মাগুরা জেলা ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

