
অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছিলেন না মা। একদিকে সন্তানের কষ্ট, অন্যদিকে চরম আর্থিক সংকট—সব মিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ছয় বছরের মেয়েকে হায়দরাবাদের হুসেইন সাগর লেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
তবে মায়ের সেই ভয়ংকর সিদ্ধান্তের পরও ভাগ্য সহায় হয় শিশুটির। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে এক অটোরিকশাচালক এক মুহূর্ত দেরি না করে লেকে ঝাঁপ দেন। পানির ভেতর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানান।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে হুসেইন সাগর লেকে এ ঘটনা ঘটে। ছয় বছরের শিশুটির নাম রুকসানা। তাকে লেকে ফেলে দেওয়ার দৃশ্য দেখে অটোরিকশাচালক দ্রুত পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
উদ্ধারের পর রুকসানাকে গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মা শাবানা হায়দরাবাদের ওল্ড বোয়েনপল্লির হাসমতপেট এলাকার বাসিন্দা। স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন তিনি। পরিবারের খরচ মেটাতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন শাবানা।
এর মধ্যে রুকসানা কয়েক দিন ধরে বৃহদন্ত্রের সংক্রমণে ভুগছিল। একাধিক হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসা করিয়েও আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছিল না। একদিকে সন্তানের অসুস্থতা, অন্যদিকে চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান খরচ—দুইয়ের চাপে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন শাবানা।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মেয়ের অসুস্থতা ও চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে শিশুটিকে লেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে ডোমালগুড়া থানার পুলিশ।
এক মুহূর্তের সিদ্ধান্তে ছয় বছরের শিশুটির জীবন যখন হুমকির মুখে, তখন অচেনা এক অটোরিকশাচালকের সাহসী তৎপরতাই তাকে ফিরিয়ে দিল জীবনের পথে। এখন চিকিৎসাধীন রুকসানার সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় তার স্বজনেরা।

