
স্বামী খুঁজছেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লটের ৩৬ বছর বয়সী আরিন প্যাটারসন। তবে জীবনসঙ্গী খুঁজতে প্রচলিত ডেটিং অ্যাপের পথে হাঁটেননি তিনি। বরং সম্ভাব্য স্বামী বাছাই করতে তৈরি করেছেন ‘হাজব্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন’ নামে একটি আবেদনপত্র। আর সেই আবেদনেই এখন পর্যন্ত সাড়া দিয়েছেন ২৪১ জন পুরুষ!
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের শেষ দিকে নিজের ইনস্টাগ্রাম পরিচিতিতে তিন পৃষ্ঠার ওই আবেদনপত্রের সংযোগ দেন প্যাটারসন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু করেন স্বামী খোঁজার প্রচার। এরপর তাঁর কাছে এসেছে ২৪১টি আবেদন। এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০টি সরাসরি বার্তাও পেয়েছেন তিনি।
আবেদনপত্রে প্যাটারসন জানিয়েছেন, তিনি এমন একজন পুরুষ খুঁজছেন, যিনি সুদর্শন, বুদ্ধিমান, দয়ালু, বিশ্বস্ত ও উদার। একই সঙ্গে কফি বা রাতের খাবারের সাক্ষাৎ, ভালো কথোপকথন এবং সম্পর্ককে সময় দেওয়ার মানসিকতাও থাকতে হবে তাঁর।
২০১৯ সালে একটি বাগদান ভেঙে যাওয়ার পর মহামারির সময় প্যাটারসন শার্লটে চলে আসেন। প্রায় তিন বছর ধরে একা থাকলেও জীবনসঙ্গী খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ডেটিং অ্যাপের পাশাপাশি সরাসরি পরিচয়ের মাধ্যমেও বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানান প্যাটারসন।
তাঁর বাবা-মায়ের ৪৪ বছরের দাম্পত্য জীবনও তাঁকে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতি অনুপ্রাণিত করেছে। প্যাটারসনের ভাষায়, জীবনসঙ্গী খোঁজার জন্য তিনি অনেক কিছুই চেষ্টা করেছেন। সেখান থেকেই মাথায় আসে ‘হাজব্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন’-এর ধারণা।
কেমন স্বামী চান প্যাটারসন?
‘সো… ইউ আর ইন্টারেস্টেড?’ শিরোনামের আবেদনপত্রে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে প্যাটারসন নিজেকে আশাবাদী, প্রাণবন্ত, দয়ালু ও মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারেন—এমন একজন হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সম্ভাব্য স্বামীর জন্য রয়েছে বেশ কিছু শর্তও। বয়স হতে হবে ২৮ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে। হতে হবে খ্রিস্টান, অবিবাহিত এবং প্রেম ও বিয়েতে আগ্রহী। ভবিষ্যতে স্বামী ও বাবা হওয়ার ইচ্ছাও থাকতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে অন্তত স্নাতক ডিগ্রিকে গুরুত্ব দিয়েছেন প্যাটারসন। উচ্চতার ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর পছন্দ—পুরুষটির উচ্চতা অন্তত ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি হতে হবে। কারণ প্যাটারসনের নিজের উচ্চতা খালি পায়ে ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং হিল পরলে প্রায় ৬ ফুট।
আবেদনকারীদের কাছে জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে তাঁদের প্রত্যাশা সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়েছে। এমনকি কোন বিষয়ে তাঁরা ‘অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময়’ কথা বলতে পারেন, সেই প্রশ্নও রাখা হয়েছে আবেদনপত্রে।
প্যাটারসন জানিয়েছেন, ছুটির মৌসুমে একজন সঙ্গী পাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য বিয়ে।
তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ তাঁর সাহসী উদ্যোগের প্রশংসা করছেন, আবার কেউ বিস্ময় প্রকাশ করছেন এমন অভিনব পদ্ধতিতে স্বামী খোঁজার ঘটনায়।

