
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার তদন্তে আলোচনায় আসা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাতের তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালে ওই সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছিলেন সিরাজগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত।
প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, মোজাফফর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, দেশে ফেরার পর তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছিলেন। তবে কোনো কারণে সাক্ষাৎ করতে পারছিলেন না। পরে হাবিবে মিল্লাতের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি হয়।
প্রসিকিউটর জানান, হাবিবে মিল্লাত মোজাফফরকে বলেছিলেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন। পরে ওই অনুষ্ঠানেই শেখ হাসিনার সঙ্গে মোজাফফরের সাক্ষাৎ হয়। সেখানে মোজাফফর তাকে স্যালুট করেন এবং নিজের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানতে চান বলে প্রসিকিউটরের বক্তব্য।
তানভীর হাসান জোহার দাবি, ওই সময় শেখ হাসিনা মোজাফফরকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং আত্মসমর্পণের কথাও বলেন। পরে মোজাফফর আত্মসমর্পণ করেন বলে প্রসিকিউটর জানান। সেনা সদর থেকে একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছিল বলে তার ভাষ্য। তবে পরবর্তী সময়ে কোনো কারণে তার যোগদান গ্রহণ হয়নি অথবা প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়।
এরপর মোজাফফর বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত হন বলে প্রসিকিউটর জানিয়েছেন।
এর আগে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা দাবি করেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার মরদেহ পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মোজাফফরের সম্পৃক্ততার তথ্য জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মোজাফফর জানিয়েছেন, তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান তাকে মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে পরে একজন ইমামকে এনে জিয়াউর রহমানসহ তিনজনের মরদেহ একটি কবরে দাফন করা হয় বলে প্রসিকিউটর জানান।
১৯৮১ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর চলতি বছরের ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্য মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের দেওয়া বক্তব্য ও জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফরের কথিত বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে।

