
গভীর রাত। বাড়ির সবাই যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন তরুণীর ঘরে হঠাৎ এক যুবককে খাটের নিচে পাওয়া গেল। তাকে চোর সন্দেহে আটক করে মারধরের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পরে জানা যায়, ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের নুরুল্লাহ সমাজ এলাকায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম ফয়সাল। তাকে খাটের নিচ থেকে আটকের পর বেঁধে মারধর করা হয় বলে তার পরিবারের অভিযোগ।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গোলাম মাওলার ছেলে ফয়সালের সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই রাতে তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে যান ফয়সাল। একপর্যায়ে তরুণীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন তাকে ঘরের খাটের নিচে দেখতে পান।
এরপর তাকে আটক করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ফয়সালের স্বজনরা। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।
ফয়সালের বাবা গোলাম মাওলার অভিযোগ, ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজনের চাপের মুখে ফয়সালকে ইউপি সদস্য ফরিদ মেম্বারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
ফরিদ মেম্বার বলেন, ফয়সালকে আটকের খবর পেয়ে তাকে তার কাছে আনা হয়। আহত অবস্থায় দেখে প্রথমে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামাজিকভাবে বসে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযুক্ত ওয়ারেছ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফয়সাল তার বোনের ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে মারধরের চেষ্টা করলে তিনি কয়েকজনের সহায়তায় ফয়সালকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করেন এবং ইউপি সদস্যের জিম্মায় দিয়ে দেন।
এ ঘটনায় ২৯ সেপ্টেম্বর ফয়সালের বাবা গোলাম মাওলা বাদী হয়ে ওয়ারেছসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে রামগতি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটন দেওয়ান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

