১১ বছর কেমোথেরাপি, পরে জানা গেল ক্যানসারই ছিল না

১১ বছর কেমোথেরাপি, পরে জানা গেল ক্যানসারই ছিল না - the Bengali Times
বেকি জোন্স

ক্যানসারের চিকিৎসা হিসেবে টানা ১১ বছর কেমোথেরাপি নেওয়ার পর জানতে পারলেন, তাঁর আদৌ ক্যানসার ছিল না। ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে বছরের পর বছর অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হয়েছে যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রির বাসিন্দা বেকি জোন্সকে।

২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বেকি। সেখানে তাঁকে মস্তিষ্কের চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসার ‘গ্লিওব্লাস্টোমা’ হয়েছে বলে জানানো হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মাত্র কয়েক মাস বাঁচার কথা জানিয়েছিলেন।

- Advertisement -

এরপর প্রায় ১১ বছর ধরে তাঁকে ‘টেমোজোলোমাইড’ নামের কেমোথেরাপির ওষুধ দেওয়া হয়। অথচ এ ধরনের চিকিৎসা সাধারণত সীমিত সময়ের জন্য দেওয়ার কথা। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় বেকি বমিভাব, পেটব্যথা ও প্রচণ্ড ক্লান্তির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগেছেন। সংক্রমণের আশঙ্কায় সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দিতে হয় তাঁকে। এতে তাঁর কর্মজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গাড়ি চালানোর অনুমতিও বাতিল করা হয়।

২০২৪ সালে চিকিৎসকের অবসরের কারণে কেমোথেরাপি বন্ধ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেন বেকি। পরে নতুন চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্কের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ২০২৫ সালের মে মাসে জানান, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন না। তাঁর সমস্যা ছিল ‘টিউমেফ্যাক্টিভ ডিমাইলিনেশন’ নামের একটি প্রদাহজনিত মস্তিষ্কের রোগ, যা ভিন্ন ধরনের চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তদন্তে আরও জানা গেছে, একই চিকিৎসকের অধীনে অন্তত ৪০ জন রোগী দীর্ঘদিন অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ স্থায়ী বন্ধ্যাত্বের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন।

যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকদের সংগঠনের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, রোগীদের যথাযথ উপকার না হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় শক্তিশালী কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটিকে গুরুতর চিকিৎসাগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কেমোথেরাপি ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles