কনে ‘বন্দি’ করে বিয়ে, অদ্ভুত রীতি কুং জনগোষ্ঠীতে

কনে ‘বন্দি’ করে বিয়ে, অদ্ভুত রীতি কুং জনগোষ্ঠীতে - the Bengali Times
আধুনিকতার ছোঁয়ায় পৃথিবীর নানা প্রাচীন রীতি বদলে গেলেও কিছু জনগোষ্ঠী এখনো ধরে রেখেছে তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রথা

আধুনিকতার ছোঁয়ায় পৃথিবীর নানা প্রাচীন রীতি বদলে গেলেও কিছু জনগোষ্ঠী এখনো ধরে রেখেছে তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রথা। দক্ষিণ আফ্রিকার কুং জনগোষ্ঠীর বিয়ের রীতিও তেমনই ব্যতিক্রমী। এখানে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় কনেকে প্রতীকীভাবে ‘অপহরণ’ বা ‘বন্দি’ করার রীতি রয়েছে।

কুং জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষাকৃত বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে আসছে। ইতিহাসে বান্টু ও ইউরোপীয় অভিবাসী গোষ্ঠীর নিপীড়ন ও ভূমি দখলের কারণে তাদের জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তন এসেছে।

- Advertisement -

এই জনগোষ্ঠীতে বিয়ে শুধু দুই মানুষের সম্পর্ক নয়, বরং দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক ও মৈত্রী তৈরিরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কোনো মেয়ে বিবাহযোগ্য হলে ঐতিহ্য অনুযায়ী তার প্রথম বিয়ের জন্য পাত্র বেছে দেন বাবা-মা। সাধারণত ভালো শিকারি এবং স্ত্রীর পরিবারের দায়িত্ব নিতে সক্ষম পুরুষকে পাত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিয়ের দিন কনে ও বরের পরিবারের সদস্যরা মিলে প্রতীকী ‘অপহরণ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। একটি কুঁড়েঘর থেকে কনেকে তুলে এনে বরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার মাথা ঢেকে রাখা হয়। পরে তাকে একটি কুঁড়েঘরের ভেতরে রাখা হয় এবং বরকে দরজার পাশে বসে থাকতে হয়।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় বর-কনে একে অপরের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখেন এবং সরাসরি উৎসবে অংশ নেন না। উৎসব শেষ হলে তারা একসঙ্গে রাত কাটান। পরদিন সকালে বরের মা নবদম্পতিকে তেল মাখিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

তবে পাত্রকে পছন্দ না হলে কনের নিজের মত প্রকাশের সুযোগ থাকে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে তিনি পালিয়ে গিয়ে আপত্তি জানাতে পারেন। পরিবার প্রয়োজনে তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বোঝানোর চেষ্টা করে। তাতেও রাজি না হলে বিয়ে বাতিল হতে পারে।

বিয়ের পর নবদম্পতি সাধারণত স্ত্রীর পরিবারের একই গ্রামে বসবাস করেন। স্বামী স্ত্রীর পরিবারের জন্য শিকার করে খাবারের ব্যবস্থা করেন। তবে দাম্পত্য জীবন সুখকর না হলে বিচ্ছেদও এই সমাজে গ্রহণযোগ্য। স্বামী বা স্ত্রী—যে কেউ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

কুং জনগোষ্ঠীতে প্রথম বিয়ের প্রায় অর্ধেক ভেঙে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচ্ছেদের পর দুজনই নিজেদের পরিবারের কাছে আলাদা কুঁড়েঘরে থাকতে পারেন। কোনো নারীর প্রথম বিয়ে ভেঙে গেলে তিনি নিজের পছন্দের পুরুষকে বিয়ে করতে পারেন। চাইলে বিয়ে না করেও একা থাকার সুযোগ রয়েছে।

ফলে কুং জনগোষ্ঠীর বিয়ের এই রীতিতে একদিকে যেমন রয়েছে প্রতীকী ‘বন্দি’ করার প্রথা, অন্যদিকে বিয়ের ক্ষেত্রে কনের মতামত ও বিচ্ছেদের সুযোগও রয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles