
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির পর নিখোঁজ কানাডিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের খোঁজে ১০ জন কর্মকর্তাকে মাঠে নামিয়েছে কানাডার ফেডারেল সরকার। কাঠমান্ডুতে অবস্থান করে তাঁরা স্থানীয় প্রশাসন, হাসপাতাল, পুলিশ, উদ্ধারকারী দল এবং পর্যটন-সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনান্দ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, নিখোঁজ কানাডিয়ানদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাই এই দলের প্রধান দায়িত্ব। কর্মকর্তাদের দলে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের একজন সদস্যও রয়েছেন।
আনান্দ জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ৩০ জন কানাডিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে উদ্ধার অভিযান এবং নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। এর আগে শনিবার নিখোঁজ হিসেবে চিহ্নিত একজন কানাডিয়ানকে নিরাপদে খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আনান্দের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সরকারের অগ্রাধিকার হল নিখোঁজ কানাডিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পরিস্থিতি অনুযায়ী যেখানে সম্ভব, সেখানেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা জানিয়েছে, কাঠমান্ডুতে থাকা কর্মকর্তারা নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বিভিন্ন স্থানীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন। এই সমন্বয়ের আওতায় রয়েছে ট্রেকিং সংস্থা, হাসপাতাল, স্থানীয় পুলিশ, উদ্ধারকেন্দ্র, বিমান সংস্থা এবং কানাডার ভ্রমণশিল্পের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। কাঠমান্ডুতে মোতায়েন করা ১০ কর্মকর্তার মধ্যে ভারতে নিযুক্ত কানাডার ডেপুটি হাইকমিশনারও রয়েছেন।
বন্যা ও আকস্মিক জলস্রোতে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে দাঁড়াতেও জরুরি মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে কানাডা। ফেডারেল সরকার নেপালকে ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলার জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়েছে। হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং প্রায় ৩,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে। দুর্যোগের ভয়াবহতার কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ও যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটায় নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধান এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কানাডার বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের সরাসরি মাঠে পাঠানো হয়েছে।
কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার ও অনুসন্ধানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি নিখোঁজ কানাডিয়ানদের পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় থাকা ব্যক্তিদের অবস্থান নিশ্চিত করতে ট্রেকিং কোম্পানি ও স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার তথ্যও কাজে লাগানো হচ্ছে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল। ফলে নিখোঁজ কানাডিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা এবং উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য আসতে পারে।

