
বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই আলোচনায় ছিল তার সাবেক ব্যবস্থাপক দিশা সালিয়ানের মৃত্যু। এবার সেই মৃত্যু মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। দিশার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই) মামলা নথিভুক্ত করার পর তদন্ত শুরু করেছে।
২০২০ সালের জুনে দিশা সালিয়ানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে জানিয়েছিল মুম্বাই পুলিশ। তবে শুরু থেকেই তার পরিবার এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিল। দিশার বাবা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রমাণ নষ্ট ও ঘটনার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ারও অভিযোগ তোলা হয়।
সম্প্রতি মুম্বাই হাইকোর্ট দিশার মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইয়ের হাতে দেওয়ার পর মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। সিবিআইয়ের এফআইআরে হত্যা, গণধর্ষণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এফআইআরে মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের ছেলে আদিত্য ঠাকরে, অভিনেতা দিনো মারিয়া, সুরজ পাঞ্চোলি এবং অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর নামসহ আরও কয়েকজনের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। তৎকালীন এক পুলিশ কর্মকর্তার নামও এফআইআরে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এফআইআরে কারও নাম থাকা মানেই তিনি অপরাধী—এমন নয়। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে।
দিশার মৃত্যুর কয়েক দিন পরই সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু হওয়ায় দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সুশান্তের মৃত্যুর ঘটনায় অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর নামও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। সুশান্তের সঙ্গে সম্পর্কে থাকা রিয়া ২০২০ সালের ৮ জুন তার ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। পরে সুশান্তের মৃত্যুর পর মাদকসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক মাস কারাগারে ছিলেন তিনি।
এখন দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর তদন্তে সিবিআই সুশান্তের সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, পাশাপাশি মামলায় নাম আসা ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে দিশার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

