৮০-১০০ কেজি ওজনের মানুষও ভাসছেন শালুক পাতায়

৮০-১০০ কেজি ওজনের মানুষও ভাসছেন শালুক পাতায় - the Bengali Times

বিশাল আকৃতির শালুক পাতার ওপর বসে পানিতে ভাসছেন পূর্ণবয়স্ক মানুষ

বিশাল আকৃতির শালুক পাতার ওপর বসে পানিতে ভাসছেন পূর্ণবয়স্ক মানুষ। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার শিবপুরের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ভারতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে দেখা মিলছে এমনই দৃশ্যের। সেখানে আমাজনের দৈত্যাকার জলজ উদ্ভিদ ‘ভিক্টোরিয়া অ্যামাজোনিকা’র পাতায় ৮০ থেকে ১০০ কেজি কিংবা তারও বেশি ওজনের মানুষকে বসিয়ে ভাসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার পরিচালক ড. কনাদ দাসের উপস্থিতিতে শুরু হয়েছে এই বিশেষ উদ্যোগ। গত কয়েক দিনে উদ্যানের কর্মী থেকে শুরু করে দর্শনার্থীদের কেউ কেউ বিশাল পাতার ওপর বসে পানিতে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়েছেন। উদ্যান কর্তৃপক্ষের দাবি, ভারতে এই ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম।

- Advertisement -

আমাজন অরণ্যের এই দৈত্যাকার জলজ উদ্ভিদ দীর্ঘদিন ধরে হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেনের অন্যতম আকর্ষণ। ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে উদ্ভিদটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এরপর সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছে ভিক্টোরিয়া অ্যামাজোনিকাকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বর্তমানে উদ্যানের বিভিন্ন এলাকায় ১৬টি জলাশয়ে এই উদ্ভিদের সংরক্ষণ করা হচ্ছে। গবেষকরা জানান, এর বিশাল আকারের পাতা এবং কাঁটাযুক্ত কাণ্ড দর্শনার্থীদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল তৈরি করে। পাতার তুলনায় এর ফুল তুলনামূলক ছোট। ফুল সাধারণত গোলাপি রঙের হয়। তবে বিশাল পাতার কারণেই উদ্ভিদটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

এত বড় পাতার ওপর একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ কীভাবে ভেসে থাকতে পারেন, তা নিয়েও দর্শনার্থীদের আগ্রহ রয়েছে। উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে ৮০ থেকে ১০০ কেজি বা তার বেশি ওজনের মানুষকে পাতার ওপর বসিয়ে ভাসানো হচ্ছে। তবে পাতার ক্ষতি এড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

পাতার ওপর ও নিচে দুটি ভাসমান উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে মানুষের ওজন সরাসরি পাতার ওপর পুরোপুরি চাপ না দিয়ে বিতরণ হয়। ফলে পাতা ছিঁড়ে বা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে।

গবেষক ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের মতে, ফুল ফোটার আগে ভিক্টোরিয়া অ্যামাজোনিকার পাতা তুলনামূলকভাবে বড় ও শক্তিশালী হয়। তাই উপযুক্ত ও শক্তিশালী পাতাগুলো বেছে নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্যানের ১ নম্বর গেট থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে নির্দিষ্ট একটি জলাশয়ের অংশে চলছে এই বিশেষ আয়োজন। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও আগামী বছর থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্যও এই অভিজ্ঞতা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ভিক্টোরিয়া অ্যামাজোনিকার মৌসুম থাকে। ফলে আগামী বছর এই সময়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে দর্শনার্থীরা বিরল এই জলজ উদ্ভিদ দেখার পাশাপাশি এর বিশাল পাতায় বসে পানিতে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতাও নিতে পারবেন।

 

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles