
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফর ঘিরে নয়াদিল্লিতে জোরদার করা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শুক্রবার ভারতের রাজধানীতে পৌঁছান পুতিন। তাঁর সফরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে বিশেষভাবে সুরক্ষিত প্রেসিডেনশিয়াল উড়োজাহাজ—যেটি আন্তর্জাতিকভাবে ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে পরিচিত।
পুতিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মস্কো থেকে একই রকম দেখতে দুটি উড়োজাহাজ আনা হয়েছে। দুটি বিমান একসঙ্গে আকাশে ওড়ার কারণে কোনটিতে রুশ প্রেসিডেন্ট অবস্থান করছেন, তা বাইরে থেকে শনাক্ত করা কঠিন। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ‘ডিকয়’ কৌশল পুতিনের আন্তর্জাতিক সফরের পরিচিত বৈশিষ্ট্য।
পুতিনের ব্যবহৃত বিশেষ বিমানটি ইল্যুশিন আইএল-৯৬-৩০০ মডেলের অত্যাধুনিক ও কাস্টমাইজড সংস্করণ। চার ইঞ্জিনের এই দীর্ঘপাল্লার উড়োজাহাজ তৈরি করেছে রাশিয়া। এতে রয়েছে শক্তিশালী পিএস-৯০এ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, যা বিমানটিকে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতা দেয়।
প্রায় ৫৫ মিটার দীর্ঘ এবং ৬০ মিটারের বেশি ডানার বিস্তারের এই বিমান পরিচালনা করে রাশিয়ার বিশেষ ফ্লাইট স্কোয়াড্রন। তবে এটি শুধু রাষ্ট্রপ্রধানের যাতায়াতের বাহন নয়; জরুরি পরিস্থিতিতে এটি আকাশে থাকা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘চলমান কমান্ড সেন্টার’ হিসেবেও কাজ করতে পারে।
বিমানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো এর অত্যাধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা। এনক্রিপ্টেড যোগাযোগের মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব। রয়েছে কৃত্রিম উপগ্রহ সংযোগ, সুরক্ষিত রেডিও চ্যানেল, রাডার-জ্যামিং প্রযুক্তি ও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির পাশাপাশি বিলাসিতাতেও কম যায় না ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’। এর ভেতরে রয়েছে পুতিনের ব্যক্তিগত স্যুট ও শয়নকক্ষ, বিলাসবহুল বাথরুম, রান্নাঘর, খাবারের জায়গা এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের জন্য বিশেষ সম্মেলনকক্ষ।
সব মিলিয়ে পুতিনের এই উড়োজাহাজ শুধু আকাশপথে ভ্রমণের মাধ্যম নয়; বরং সংকটের সময় রাষ্ট্র পরিচালনা, নিরাপদ যোগাযোগ এবং রাষ্ট্রপ্রধানের সুরক্ষা—তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য তৈরি একটি বিশেষায়িত আকাশযান।

