
দেশে ফিরবেন—এমন ঘোষণা ঘিরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারত চলে যাওয়া শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন। তবে তার এই ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন বা না ফিরুন—দুই পরিস্থিতিরই বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় দেশে ফেরা তার জন্য সহজ নয়। কারণ দেশে ফিরলে তাকে একদিকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবেও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ৩১ ডিসেম্বরকে ঘিরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওই সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে না পারলে তার নেতৃত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে প্রশ্ন উঠতে পারে। ভবিষ্যতে তিনি দেশে ফেরার নতুন কোনো ঘোষণা দিলে সেটিও আগের মতো বিশ্বাসযোগ্যতা নাও পেতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম মনে করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার রাজনৈতিক কৌশল। তার মতে, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে না ফিরলে পরবর্তীতে ভ্রমণ অনুমতি বা বিমান অবতরণের অনুমতির মতো নানা কারণ সামনে আসতে পারে, তবে সেসব ব্যাখ্যা তার রাজনৈতিক অবস্থানের ঘাটতি পূরণ করতে পারবে না।
রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে তিনি দেশে ফিরলে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন করে সক্রিয়তা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার রায় ও এর বাস্তবায়ন নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা বিচারাধীন এবং ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনা দেশে এলে বিমানবন্দরেই তাকে গ্রেফতার করা হবে এবং এরপর আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে ডিসেম্বর যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা। তিনি সত্যিই ফিরবেন, নাকি নির্ধারিত সময় পার হলেও দেশে ফিরবেন না—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত।

