১১৯ বছরেও হাসিখুশি হোসে, বিশ্বের প্রবীণতম হওয়ার অপেক্ষায়

১১৯ বছরেও হাসিখুশি হোসে, বিশ্বের প্রবীণতম হওয়ার অপেক্ষায় - the Bengali Times
নাতনির সঙ্গে শান্তিতে দিন কাটছে কোস্টারিকার হোসে ফ্লোরেসের

কাঠের ছোট্ট একটি বাড়ি। সেখানেই নাতনির সঙ্গে শান্তিতে দিন কাটছে কোস্টারিকার হোসে ফ্লোরেসের। পরিবারের দাবি, তার বয়স এখন ১১৯ বছর। জন্মতারিখ ও পরিচয়সংক্রান্ত নথি আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই হয়ে গেলে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারেন তিনি।

হোসে থাকেন কোস্টারিকার সারদিনাল শহরে। এটি নিকোয়া উপদ্বীপের অংশ, যা বিশ্বের পরিচিত পাঁচটি ‘ব্লু জোন’-এর একটি। এসব অঞ্চলে মানুষের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের হার তুলনামূলক বেশি।

- Advertisement -

স্থানীয়দের মতে, নিকোয়া অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘায়ুর পেছনে রয়েছে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কায়িক শ্রম, খনিজসমৃদ্ধ পানি এবং পরিবার ও সমাজের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক। ভুট্টা ও শিমভিত্তিক খাবারও এখানকার মানুষের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে হোসের দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে ঘুমিয়ে, পরিবারের তৈরি খাবার খেয়ে এবং নাতনির সঙ্গে সময় কাটিয়ে। কখনো অতীতের গল্প করেন, আবার কখনো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রসিকতায় মেতে ওঠেন।

তার দেখভালের দায়িত্বে থাকা নাতনি হেলেন ফ্লোরেস বলেন, দীর্ঘ জীবন পাওয়ার পেছনে পরিবারের ভালোবাসা ও যত্নের বড় ভূমিকা রয়েছে। সারাজীবন গ্রামাঞ্চলে পরিশ্রম করা তার দাদা এখন জীবনের শেষ অধ্যায়ে বেশ শান্তিতেই আছেন।

হোসের পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯০৭ সালের ১১ জুলাই। জন্মসনদ, বাপ্তিস্মের সনদসহ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের নথিও রয়েছে। তবে বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগে এসব নথি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাচাই করা হবে।

নিকোয়া ব্লু জোন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা হোর্হে ভিনদাসের মতে, দীর্ঘ জীবনের পেছনে পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক সম্পর্ক, আধ্যাত্মিকতা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যকর খাবারের ভূমিকা রয়েছে।

হোসের পরিবারও বেশ বড়। তার আট সন্তান, ২৩ নাতি-নাতনি এবং ২৫ প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী রয়েছে। নথিপত্র যাচাই শেষে তিনি সত্যিই বিশ্বের প্রবীণতম জীবিত ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পান কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles