পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন অভিনেত্রী মেঘলার

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন অভিনেত্রী মেঘলার - the Bengali Times
মডেল ও অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তা

দুর্ঘটনায় ধাক্কা দেওয়া গাড়ি ও চালককে আটকের পর পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মডেল ও অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তা। তাঁর অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর প্রায় এক মাস গাড়িটির নম্বর জানা থাকলেও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ নতুন করে মামলা করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়ি ও চালককে আটক এবং পরদিন গাড়িটি আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন মেঘলা মুক্তা।

- Advertisement -

অভিনেত্রীর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা না থাকায় গত ১ সেপ্টেম্বর মেঘলার বাবা বাদী হয়ে বনানী থানায় পুনরায় মামলা করেন। এর পর ৩ সেপ্টেম্বর রাতে গাড়ি ও চালককে আটকের বিষয়টি পরিবারকে জানায় পুলিশ। পরদিন সকালে গাড়িটি আদালতে পাঠানো হয়।

এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেঘলা বলেন, এক মাস ধরে গাড়িটির নম্বর জানা থাকার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু নতুন করে অভিযোগ এবং ওপরমহলে চাপ দেওয়ার পর মাত্র এক দিনের মধ্যে গাড়ি ও চালককে আটক করা হয়েছে। এর পরের দিন সকালেই গাড়িটি আদালতে পাঠানো হয়েছে—এত দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কারণ কী, সেটি জানতে চান তিনি।

গাড়িটির মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানতে চান, বনানী থানার প্রাথমিক তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে গাড়ির মালিক কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গত এক মাসে কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়েছে কি না।

তবে কাউকে সরাসরি অভিযুক্ত করছেন না উল্লেখ করে মেঘলা বলেন, তিনি কেবল তাঁর প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে চান। পুলিশের এই তৎপরতার ব্যাখ্যা পাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মেঘলার প্রশ্ন, গাড়িটি আদালতে পাঠিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বনানী থানা কি তাদের দায়বদ্ধতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে? নাকি এখন পুরো বিষয়টি আদালত ও আইনজীবীদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে?

এর আগে গত ২৮ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানী এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন মেঘলা মুক্তা। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। পথচারী ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ওই রাতেই মেঘলার বন্ধু ও সহশিল্পী অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ বনানী থানায় অভিযোগ করেন।

দুর্ঘটনায় মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত পান মেঘলা। প্রায় এক মাস নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র ও কেবিনে চিকিৎসাধীন থাকার পর সম্প্রতি মুখে একাধিক অস্ত্রোপচার শেষে তিনি বাসায় ফিরেছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে গাড়ি ও চালককে আটকের বিষয়টি মেঘলার পরিবারকে নিশ্চিত করা হলেও, পুলিশের তদন্ত ও দ্রুত আদালতে গাড়ি পাঠানোর বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য জানা যায়নি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles