
ভারতের ভুপালে তিশা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার ৬০০ পৃষ্ঠার চার্জশিটে মৃত্যুর আগের প্রায় ৯০ মিনিটের ঘটনাপ্রবাহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
চার্জশিট অনুযায়ী, ১২ মে রাত ৯টা ৩৬ মিনিটে তিশা তার ননদ রাশি আবরোলকে একটি আতঙ্কজনক বার্তা পাঠান। সেখানে স্বামী সমর্থ সিংকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, তার ‘অবশিষ্টাংশ’ নিয়ে যেতে এবং তাকে শান্তিতে মরতে দিতে।
এর চার মিনিট পর সিসিটিভি ফুটেজে তিশাকে বাড়ির নিচতলা থেকে একা সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে দেখা যায়। রাত ৯টা ৪১ মিনিটে তিনি বাবাকে ফোন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, সমর্থ ‘আক্রমণাত্মক ও সহিংস’ হয়ে উঠেছেন। একই সঙ্গে বাবা-মাকে দ্রুত তার কাছে আসতে বলেন।
রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে মাকেও ফোন করেন তিশা। তখনও স্বামীর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর রাত ১০টা ২৩ মিনিটে সিসিটিভিতে সমর্থ ও তার মা গিরিবালা সিংকে ছাদের দিকে যেতে দেখা যায়। পরে তিশাকে নিচে নামিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে ভুপালের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
দাম্পত্য জীবনে নির্যাতনের অভিযোগ
১৪ আগস্ট দাখিল করা চার্জশিটে সমর্থ সিং ও তার মা গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে তিশাকে দীর্ঘদিন মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত সংস্থার দাবি, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে সমর্থের সঙ্গে তিশার পরিচয় হয়। একই বছরের ৯ ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিশার আগের সম্পর্ক নিয়ে স্বামী তাকে অপমান করতেন এবং তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, তিশা বারবার স্বামীর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করলেও তার শাশুড়ি ছেলের পক্ষ নিতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গর্ভধারণ ও অর্থনৈতিক চাপ
২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল তিশা জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তদন্ত সংস্থার দাবি, কথিত দাম্পত্য নির্যাতনের কারণে গর্ভধারণ চালিয়ে যাবেন কি না, তা নিয়ে তিনি মানসিকভাবে দ্বিধায় ছিলেন।
এদিকে তিশার ডিম্যাট হিসাবে প্রায় ২০ লাখ রুপির শেয়ার ছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। সমর্থ ও গিরিবালা ওই অর্থ যৌথ ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের জন্য তাকে চাপ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছে তদন্ত সংস্থা। তিশা এতে রাজি হননি এবং অর্থটি তার বাবার বলে জানিয়েছিলেন।
৬ মে তিশা আগের চাকরিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। একই দিনে তিনি গর্ভপাতের জন্য প্রথম ওষুধ গ্রহণ করেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন ভোরে মাকে বার্তা পাঠিয়ে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
তদন্ত সংস্থার দাবি, গর্ভপাতের বিষয়টি নিয়েও তিশার ওপর পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ ছিল। এমনকি শাশুড়ি তাকে এ কারণে ‘খুনি’ বলে তিনবার সম্বোধন করেছিলেন বলেও ননদকে জানিয়েছিলেন তিশা।
চার্জশিটে তিশার একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, ফোনকল, চিকিৎসকদের বক্তব্য, কাউন্সেলিংয়ের তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর দিনও তিনি ভুপাল ছেড়ে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

