ইয়ং অ্যান্ড এগলিন্টনে পেডেস্ট্রিয়ান স্ক্র্যাম্বল

ইয়ং অ্যান্ড এগলিন্টনে পেডেস্ট্রিয়ান স্ক্র্যাম্বল - the Bengali Times
স্ক্র্যাম্বল চালুর আগে পরিস্থিতি আরও বিশদভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে কাউন্সিল

পথচারীদের নিরাপত্তা বাড়াতে টরন্টোর ব্যস্ততম সংযোগস্থলগুলোর একটি ইয়ং স্ট্রিট ও এগলিন্টন অ্যাভিনিউর মোড়ে পেডেস্ট্রিয়ান স্ক্র্যাম্বল চালুর পক্ষে ভোট দিয়েছে টরন্টো সিটি কাউন্সিল। একই সঙ্গে ইয়ং স্ট্রিটের আরও উত্তরে রোয়েহাম্পটন অ্যাভিনিউ ও অর্চার্ড ভিউ বুলভার্ডের সংযোগস্থলেও এমন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব উঠেছে। তবে দ্বিতীয় মোড়টিতে স্ক্র্যাম্বল চালুর আগে পরিস্থিতি আরও বিশদভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে কাউন্সিল। পেডেস্ট্রিয়ান স্ক্র্যাম্বল বা ‘স্ক্র্যাম্বল ইন্টারসেকশন’ এমন একটি ট্রাফিক ব্যবস্থা, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সব দিকের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে পথচারীদের রাস্তা পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রচলিত সিগন্যাল ব্যবস্থায় পথচারীরা সাধারণত নির্দিষ্ট ক্রসিং ধরে রাস্তা পার হন। কিন্তু স্ক্র্যাম্বল ব্যবস্থায় তাঁরা মোড়ের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সরাসরি কিংবা তির্যকভাবেও রাস্তা পার হতে পারেন।

ইয়ং স্ট্রিট ও এগলিন্টন অ্যাভিনিউর সংযোগস্থল দীর্ঘদিন ধরেই টরন্টোর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। পথচারী, গাড়ি, সাইকেল এবং গণপরিবহনের বিপুল চাপের কারণে এই মোড়ে নিরাপদে রাস্তা পারাপার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। কাউন্সিলর জশ ম্যাটলো, যিনি এই উদ্যোগের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, জানিয়েছেন, ইয়ং ও এগলিন্টন ইতিমধ্যেই শহরের অন্যতম ব্যস্ত মোড়ে পরিণত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই এলাকায় পথচারী চলাচলকে আরও নিরাপদ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। সিটি কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যানও সেই চাপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪,৫০০ পথচারী ইয়ং স্ট্রিট ও এগলিন্টনের মোড় দিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের পারাপারকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করার জন্য নতুন ধরনের ট্রাফিক ব্যবস্থা পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

- Advertisement -

স্ক্র্যাম্বল ইন্টারসেকশনকে অনেক সময় ‘পেডেস্ট্রিয়ান প্রায়োরিটি ফেজ’ও বলা হয়। এই ব্যবস্থায় ট্রাফিক সিগন্যালের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে সব দিকের যানবাহনকে থামিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় পথচারীরা একসঙ্গে বিভিন্ন দিক দিয়ে রাস্তা পার হতে পারেন। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, পথচারীদের কোনও একটি নির্দিষ্ট ক্রসিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয় না। তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী রাস্তার এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে পারবেন। এমনকি মোড়ের এক কোণ থেকে বিপরীত কোণে তির্যক বা কোণাকুণি পথেও পারাপার করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে যেসব মোড়ে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক পথচারী বিভিন্ন দিকে যেতে চান, সেখানে এই ব্যবস্থা সময় ও চলাচল দুই ক্ষেত্রেই সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কমিউনিটি সংগঠন ওয়াক টরন্টোর পক্ষ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে ইয়ং-এগলিন্টনে স্ক্র্যাম্বল ইন্টারসেকশন চালুর দাবি জানানো হচ্ছিল। সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত লি স্কট গত বছর থেকেই এই ব্যবস্থার পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছেন। কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ফলে এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ইয়ং ও এগলিন্টন এলাকায় পেডেস্ট্রিয়ান স্ক্র্যাম্বল চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে একই ধরনের ব্যবস্থা ইয়ং স্ট্রিটের আরও উত্তরে রোয়েহাম্পটন অ্যাভিনিউ/অর্চার্ড ভিউ বুলভার্ডের মোড়েও চালু হবে কি না, তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। ওই মোড়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তার সম্ভাব্য প্রভাব এবং কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য কাউন্সিল নির্দেশ দিয়েছে।

পথচারীদের নিরাপত্তার দিক থেকে স্ক্র্যাম্বল ব্যবস্থা ইতিবাচক হলেও, এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অন্যতম উদ্বেগ, এই ধরনের অতিরিক্ত পথচারী সিগন্যাল যানবাহনের অপেক্ষার সময় বাড়িয়ে দিতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর জিওগ্রাফি অ্যান্ড প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক ম্যাটি সিয়েমিয়াটিকির মতে, নতুন ব্যবস্থা চালকদের জন্য অতিরিক্ত বিলম্ব তৈরি করতে পারে। কারণ পথচারীদের জন্য আলাদা একটি সিগন্যাল পর্যায় যুক্ত হলে পুরো মোড়ের ট্রাফিক সিগন্যালের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু একটি সিগন্যাল বসালেই সমস্যার সমাধান হবে না পুরো এলাকার ট্রাফিক লাইট, সাইকেল চলাচল এবং পথচারী পারাপারের সময় একে অপরের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাঁর মতে, স্ক্র্যাম্বল ব্যবস্থা কতটা সফল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে বাস্তবায়নের পদ্ধতির ওপর।

ইয়ং-এগলিন্টনের মতো ব্যস্ত মোড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চলাচল। ফলে শুধুমাত্র গাড়ির গতি বজায় রাখার পরিবর্তে পথচারীদের নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আবার অতিরিক্ত সিগন্যাল পর্যায় যুক্ত হলে যানজট বা গাড়ির অপেক্ষার সময় বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই কারণেই কাউন্সিলের সিদ্ধান্তকে শুধু একটি নতুন ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি ধরা পড়বে না। বরং এটি টরন্টোর ব্যস্ত নগরকেন্দ্রে পথচারী, গাড়ি ও সাইকেল তিন ধরনের চলাচলের মধ্যে নতুন ভারসাম্য তৈরির একটি প্রচেষ্টা। ২০২৭ সালের মধ্যে ইয়ং-এগলিন্টনে স্ক্র্যাম্বল ইন্টারসেকশন চালু হলে সেটি বাস্তবে কতটা পথচারী নিরাপত্তা বাড়াতে পারে এবং যানবাহনের চলাচলে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। দ্বিতীয় কোনও মোড়ে একই ব্যবস্থা নেওয়ার আগে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত থেকেও বোঝা যাচ্ছে, শহর কর্তৃপক্ষ এই মডেলটি ধাপে ধাপে পরীক্ষা করে এগোতে চাইছে।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles